এক ঝলক
সামসেরগঞ্জের প্রতাপগঞ্জ পঞ্চায়েতে অনাস্থা, নতুন প্রধান নির্বাচনের জল্পনা কলকাতা লিগে দাপুটে সূচনা মোহনবাগানের, সায়নের ঝলকে উড়ল পাঠচক্র আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ে বিস্ফোরক জিকো ইংল্যান্ডের কোচ হতে পারেন দ্রাবিড়, জল্পনা তুঙ্গে চেন্নাই সুপার কিংসের কোচের পদ ছাড়লেন স্টিফেন ফ্লেমিং

সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বন্ধ করতে আজ থেকে গুন্ডাদমন আইন লাগু

নিজস্ব সংবাদদাতা: ক্ষমতায় এসেই রাজ্যে দুষ্কৃতী-দৌরাত্ম্য রুখতে উদ্যোগী হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
Ganamadhyam
13 July, 2026


 
সেই লক্ষ্যে কয়েক সপ্তাহ আগেই বিধানসভায় গুন্ডা-দমন বিল পাশ করানো হয়েছিল। সেই বিলে অনুমোদনও দিয়েছেন রাজ্যপাল। ফলে বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে। আজ থেকেই রাজ্যে  লাগু হচ্ছে সেই আইন।  এর ফলে অশান্তির আঁচ পেলেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ। সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টে গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করা যাবে। গত ২৯ জুন, রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। যা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ বা জরিমানা চাপাতে পারে। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে যে আইন রয়েছে তা অন্তত এই বাংলায় আইনের শাসন কায়েম করে রাখার পক্ষে যথেষ্ট নয়। বিলে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বা মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে, এমন সব কাজই সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞার মধ্যে আনা যাবে। এর মধ্যে রাখা হয়েছে-শৃঙ্খলা নষ্ট করা, মানুষের জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, আইনসম্মত ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনি ভাবে কারও স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দখল করা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা, খনি, বালি, পাথর বা প্রাকৃতিক সম্পদ বেআইনি ভাবে উত্তোলন করা, বন্যপ্রাণী বা বনজ সম্পদের ক্ষতি করা।অর্থাৎ, শুধু রাজনৈতিক হিংসা নয়, তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট, বেআইনি খনি বা বালি কারবার, সম্পত্তি ভাঙচুর, ব্যবসায় বাধা – সবকিছুকেই এই আইনের আওতায় আনার রাস্তা খুলে রাখা হয়েছে। এবার সেই গুন্ডাদমন আইনই লাগু হতে চলেছে রাজ্যে। এই আইনে এবার থেকে আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতি থেকে হিংসাত্মক বিক্ষোভের আঁচ পেলে, ঘটনা ঘটার আগেই, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ। এছাড়া যে কোনও সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের ক্ষেত্রে এবার থেকে গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করতে পারবে সরকার। গুন্ডা বলতে প্রধানত বলা হয়েছে নিজে অথবা কোনও দল, গ্যাং বা সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা হিসেবে নিয়মিতভাবে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ করেন, করার চেষ্টা করেন, উস্কানি দেন, অর্থ জোগান বা সহায়তা করেন। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার যদি, পুলিশ সুপারের নীচে নয় এমন পদমর্যাদার কোনও অফিসারের রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হয় যে রাজ্যে কোনও গুন্ডাকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখতে আটক করা প্রয়োজন, তাহলে সরকার ওই ব্যক্তিকে আটক করার নির্দেশ দিতে পারে।
ই-পেপার