এক ঝলক
ইসকনের রথযাত্রায় অংশগ্রহণ মুখ্যমন্ত্রীর জাল নথি তৈরির চক্রের খোঁজে ইডির অভিযান উপরাষ্ট্রপতির কাছে কোয়েল মল্লিকের ইস্তফা বসিরহাটে ইডি-এটিএসের ম্যারাথন তল্লাশি, নিশানায় খারিজি মাদ্রাসা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সাত সকালে বাগদায় ইডির হানা

মেসির কোলে শিশু ইয়ামাল, ভাইরাল সেই ছবি

মাদ্রিদ : এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবলের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেন।
Ganamadhyam
17 July, 2026

দুই দলের এই মহারণে উঠে এসেছে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি ও স্পেনের তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামালের মধ্যকার লড়াইয়ের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। বিশ্বকাপের ফাইনালে কে ঝলক দেখাবেন তা নিয়ে চলছে তুমুল চর্চা। বয়সে তরুণ ইয়ামাল মেসির সমকক্ষ মানের না হলেও দুজনের খেলার পজিশন ও ধরণ প্রায় একই। এছাড়া, দুজনেই বাঁ পায়ের ফুটবলার। তাই মুখোমুখি লড়াইয়ে ফাইনালে শেষপর্যন্ত কে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরবে এ নিয়ে চলছে আলোচনা চলছে।  বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা গোলদাতা ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবং একই ক্লাবের ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক ইয়ামাল এবারই প্রথম মাঠের লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তবে তাদের প্রথম দেখা এবারই নয়, সেটাও প্রায় দুই দশক আগে হয়েছিল। ইয়ামাল তখন তিনি ছিলেন নিতান্তই এক শিশু। আর মেসি ছিলেন ২০ বছরের এক উদীয়মান তারকা। দুই বছর আগে ২০২৪ ইউরো কাপে যখন ইয়ামাল স্পেনের হয়ে নিজের উত্থানের জানান দিচ্ছিলেন, তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু অবিশ্বাস্য ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এখন বিশ্বকাপের ফাইনালের মহারণে তাদের পুনর্মিলনী সেই ছবিগুলোকে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ভাইরাল ছবিগুলোতে দেখা যায়, বাথটাবে বসে ছোট্ট ইয়ামাল। পাশে তার মা। আর লিওনেল মেসি কাঁধ পর্যন্ত নামানো চুলে। তিনি ইয়ামালের মাকে সাহায্য করেছেন ইয়ামালের গোসল করিয়ে দিতে। এই ছবিটি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন লামিনে ইয়ামালের বাবা। তার ইন্সটাগ্রাম থেকে পরবর্তী সময়ে ছবি চলে যায় ফুটবল বিশ্বের জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোর কাছে। স্কাই ইতালিয়ার এই সাংবাদিকের কাছ থেকে মুহূর্তেই এই ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই দ্বিতীয় একটি ছবি প্রকাশ করে স্প্যানিশ দৈনিক ডিয়ারিও স্পোর্টস। সেখানে প্রকাশিত দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যায়, মেসি একাই লামিনে ইয়ামালকে ধরে বসে আছেন। ছোট্ট ইয়ামাল তখনো বাথটাবেই ছিলেন।২০০৭ সালে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু’র অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুমে এই ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। কাতালান সংবাদপত্র 'দিয়ারিও স্পোর্ট' এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিগুলো তুলেছিলেন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট। ২০২৪ সালে বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মনফোর্ট সেই গল্প শুনিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা ইউনিসেফের সহায়তায় ক্যালেন্ডারটি তৈরি করছিলাম। ইউনিসেফ মাতারোর রকা ফন্ডা এলাকায় একটি লটারির আয়োজন করেছিল। ঘটনাচক্রে সেখানে লামিনের পরিবারও বসবাস করতো। ক্যাম্প ন্যু-তে বার্সার কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তারা লটারির টিকিট কাটেন এবং জিতে যান। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ড্রেসিংরুমে ইয়ামাল এবং তার মা শেইলা ইবানার সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন মেসি। তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। মনফোর্ট বলেন, মেসি খুবই অন্তর্মুখী এবং লাজুক স্বভাবের ছিল। ড্রেসিংরুমে ঢুকে যখন সে দেখল পানি ভর্তি একটি প্লাস্টিকের বাথটাব এবং তার ভেতর একটি শিশু, সে প্রথমে বুঝতেই পারছিল না বাচ্চাটিকে কীভাবে কোলে নেবে। ইয়ামালের মা শেইলাই তখন ২০ বছর বয়সী লাজুক মেসিকে ছবি তোলার কাজে সাহায্য করেছিলেন। এত বছর পর নিজের তোলা ছবি এভাবে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলায় উচ্ছ্বসিত মনফোর্ট। তিনি বলছিলেন, এমন একটা আলোড়ন তৈরি করা ঘটনার সঙ্গে নিজের নাম জড়িয়ে থাকাটা সত্যিই রোমাঞ্চকর। সত্যি বলতে, এটি খুব সুন্দর একটি অনুভূতি।
ই-পেপার