এক ঝলক
ইসকনের রথযাত্রায় অংশগ্রহণ মুখ্যমন্ত্রীর জাল নথি তৈরির চক্রের খোঁজে ইডির অভিযান উপরাষ্ট্রপতির কাছে কোয়েল মল্লিকের ইস্তফা বসিরহাটে ইডি-এটিএসের ম্যারাথন তল্লাশি, নিশানায় খারিজি মাদ্রাসা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সাত সকালে বাগদায় ইডির হানা

ইসকনের রথযাত্রায় অংশগ্রহণ মুখ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব সংবাদদাতা: কলকাতার ইসকনের রথযাত্রায় অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকল রাজ্যবাসীকে রথযাত্রার শুভেচ্ছাও জানালেন তিনি।
Ganamadhyam
17 July, 2026


বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে রাজ্য জুড়ে পালিত হয় রথযাত্রা উৎসব। রাস্তা পরিষ্কার করে কলকাতা ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করেন  মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইসকনের রথযাত্রায়  অংশগ্রহণ করে তিনি বলেন,  রথযাত্রায় উপস্থিত থাকতে পেরে আমি ধন্য। রীতি অনুযায়ী সোনার ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দিয়ে কলকাতার ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পর রথের রশিও টানেন। পশ্চিমবঙ্গবাসীকে রথযাত্রার শুভেচ্ছাও জানান তিনি। এদিন জগন্নাথদেবের রথের সামনে আরতি করে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে।  দুপুর ১২টা নাগাদ ইসকনে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে তিনি জগন্নাথদেবের বিগ্রহের সামনে নতমস্তকে প্রণাম করেন। তারপর পুজো দেন ও আরতি করেন। তার পর চলে যান শ্রীল প্রভুপাদের কক্ষে। সেখানে সাষ্টাঙ্গে প্রণামের পর পুরো কক্ষ ঘুরে দেখেন। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এই শুভ পবিত্র রথযাত্রা উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে, আমার পক্ষ থেকে সরকারের পক্ষ থেকে, আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।  আপনারা শুনলে খুশি হবেন, ইসকনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এবারের বাজেট বক্তৃতায় দেখেছেন, যে আমরা ছাত্রছাত্রী আগামীদিনের ভবিষ্যত, যে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণের প্রধানদায়িত্ব, এটা ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে ইসকন সম্মানের সঙ্গে করছে। এক্ষেত্রে আমরা পশ্চিমবঙ্গে, কলকাতা মহানগরী আগামী পয়লা আগষ্ট থেকে শুরু করতে চলেছে।এটি একটি পরম প্রাপ্তি আমাদের। আমাদের সরকার, শুধুমাত্র আধিকারিক এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সামীবদ্ধ থাকবে না। আমরা ইসকন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ সহ আধ্যাত্মিক প্রচার এবং যারা সেবা করেন মানুষের, তাদের নিয়ে, বাংলার নবনির্মাণে এগিয়ে যাবো।' ইসকনের মন্দিরে পুজো শেষে মুখ্যমন্ত্রী রথদর্শনে যান। সেখানে বিগ্রহে মাল্যদান করেন। তার পর তিনি বলেন, ‘‘আজ ভক্তদের দিন।’’ এর পরই সকলের অনুরোধে দু’কলি গৌড়ীয় সঙ্গীতও গইলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পর সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের পথ পরিষ্কার করার প্রতীকী আচার পালন করেন। এর মধ্যে দিয়ে সূচনা হয় ইসকনের রথযাত্রার। রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারও একাধিক বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার এ বছর রাজ্যের মোট ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। সেই হিসাবে মোট ৩ কোটি টাকার অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা ও সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত করতে এই আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ইসকনের প্রশংসাও শোনা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে। মিড- ডে মিলের প্রসঙ্গ উঠলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যে মিড-ডে মিল কিচেন তৈরি হচ্ছে। ইসকনের এই কাজ নতুন নয়। ২২টি বড় বড় শহরে স্কুলের মিড-ডে মিলের দায়িত্বে রয়েছে ইসকন। তিনি আরও বলেন, এই মিড-ডে মিল পুষ্টিগুণসম্পন্ন। বিগত বছর গুলিতে মিড-ডে মিল নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী।
ই-পেপার