এক ঝলক
হুকিং বা চুরি রুখতে চালু হল বিদ্যুৎ প্রহরী অ্যাপ মুখ্যমন্ত্রী সূচনা করলেন ৫০টি নতুন এসি বাস দরকারে ককরোচের আন্দোলনে আমি নিজেও যাব‌ ঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের আক্রমণের পাল্টা আক্রমণে ঋতব্রত মঞ্চের তৃনমূল কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে মমতাকে তোপ ঋতব্রত ও কংগ্রেসের

অভিষেকের আক্রমণের পাল্টা আক্রমণে ঋতব্রত মঞ্চের তৃনমূল

নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ ভোট বাক্সে মুখ ফিরিয়েছে মানুষ। ভোটের প্রচারে একের পর এক উসকানিমূলক মন্তব্য, হুমকির মামলায় তিনি জর্জরিত।
Ganamadhyam
22 July, 2026


তারপরও এতটুকু দম্ভ যায়নি! ফের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের  বক্তব্যে প্রচ্ছন্ন হুমকি! মঙ্গলবার তারামণ্ডলের কাছে শহিদ দিবসের সভা করছে ‘কালীঘাট’ তৃণমূল। সেই মঞ্চ থেকেই ‘সুদ সমেত ফেরত’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি শোনা গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তার কথায়, মিথ্যা মামলা দিলে ডায়েরিতে লিখে রাখুন, সুদ- সমেত ফেরত দেব। যারা যে ভাষা বোঝে, তাদের সেই ভাষাতেই জবাব। শুধু তাই নয়, ঋতব্রত তৃণমূলকেও কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। একদিকে যখন তারামণ্ডলের সামনে ‘কালীঘাট’ তৃণমূল অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করছেন, কিছুটা দূরেই গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভা করছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সেই সভাকে কটাক্ষ করেই এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যারা নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করত, মেয়ো রোডে কটা লোক রয়েছে, গ্রামে জেসিবি দিয়ে মাটি কোপানোর সময় এর থেকে বেশি লোক হয়। এরপরই কটাক্ষ করে সাংসদের প্রশ্ন, কর্মী কোথায়? জনতা কোথায়? কিন্তু মমতা যেখানে, জনতা সেখানে। তৃণমূলের শিকড়ের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেউ যদি ভাবে গদ্দারি, বেমানি করে দলকে দুর্বল করবে, তৃণমূল কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হবে। শুধু তাই নয়, শাসকদল বিজেপিকে আক্রমণ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বক্তব্য, ওরা ভয় পাচ্ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। এমনকী তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বলেন, এত মামলা দিয়েছে আমার উপর, একদিকে ইডি, সিবিআই, একদিকে ইনকাম ট্যাক্স, সিআইডি, এসটিএফ। কিন্তু এরপরও মুখ থেকে জয় বাংলা,‌ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বের হবে। এরপরেই উসকানি দিয়ে অভিষেক বলেন, পুলিশ যাদের মিথ্যা মামলায় অত্যাচারিত করছে, তাদের বলব ধৈর্য্য ধরুন। আর নোটবুকে সবটা তুলে রাখবেন। আমরা ঠিক সময় সব নিয়ে নেব। যারা যে ভাষায় বোঝে সেই ভাষাতেই জবাব দেওয়া হবে। বলে রাখা প্রয়োজন, ভোট প্রচারে গিয়ে একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে শোনা গিয়েছে। কখনও বলেছেন চার তারিখের পর ডিজে বাজাবেন। আবার কখনও বিরোধীদের শ্মশানে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ভোট মিটতেই যা নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, মামলার গেঁড়োয় জড়ান অভিষেক।কিন্তু এরপরেও যে তার যে বদল হয়নি, তা এদিনের অভিষেকের বক্তব্যেই স্পষ্ট। এদিকে  শিবির বদল করে মদন মিত্র ও ফিরহাদ হাকিম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করেছিলেন। অভিষেকের ‘দম্ভ’, ‘অহংকার’ প্রবীণদের না মানার জন্যই দল ভেঙেছে, সেই দাবি তুলেছিলেন বিক্ষুব্ধরা। অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে সমান্তরালভাবে দল চালানো হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। এবার ২১ জুলাইয়ের মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকেও অভিষেককে নিশানা করলেন মদন মিত্র  ও ফিরহাদ হাকিম। ক্ষমা চাইবার জন্য অভিষেককে ডেডলাইনও দিলেন মদন।তারামণ্ডলের সভামঞ্চ থেকে ঋতব্রত শিবিরকে এদিন তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত তৃণমূলকে বেনজির আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, এদের মেরুদণ্ড নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব, এদের কাউকে ফেরত নেবেন না। সুর চড়িয়ে বিরোধী শিবিরকে মমতার বার্তা, বিজেপিতে যান। যত যাবেন খুশি হব। যে স্থান শূন্য হবে, তা পূরণের জন্য আমার ছাত্র, যুব আছে। প্রায় একই সময়ে মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকে অভিষেককেও কটাক্ষ করেছেন মদন ও ফিরহাদ। এদিন মঞ্চ থেকে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মদন। অভিষেককে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাকে ধমকে-চমকে লাভ হবে না। ডায়মন্ড হারবার নিয়ে অন্যদের  চমকানো গেলেও তাকে চমকানো যাবে না। সিপিএম আমলেও তাকে ভয় দেখিয়ে কিছু করা যায়নি বলে কটাক্ষ করেছেন মদন। প্রসঙ্গত গতকাল, সোমবারও ফেসবুক লাইভে এসে অভিষেককে আক্রমণ করেছিলেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, অভিষেক আপনি তো অপরাধী, খুনি! পয়সা নিয়ে খুন করেন, সুপারি কিলার। আপনার অপরাধপ্রবণতা রয়েছে। এদিন অভিষেককে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দুই ঘণ্টা ডেডলাইনও দিয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক। তার কথায়, অভিষেক এক ঘন্টা সময় দিয়েছে। আমি এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দুই ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। এই মঞ্চে এসে দাঁড়িয়ে স্বীকার কর আমার জন্য তৃণমূলের এই দশা, ক্ষমতা থাকলে স্বীকার কর। মমতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী ফিরহাদ হাকিমও শিবির বদল করে ঋতশিবিরে এসেছেন। এদিন মঞ্চ থেকে ফিরহাদও অভিষেককে নাম না করে নিশানা করেছেন। তিনি কটাক্ষ করেছেন, যারা লিফটে উঠে রাজনীতি করছেন, আর যারা প্যারাশুটে নামছেন, তাদের অস্তিত্ব থাকবে না। শহিদ দিবস রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চ নয়, ক্যাটওয়াকের মঞ্চ নয়, কটাক্ষ ঋতব্রতর। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দিদি কেন এই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করলেন না? কী বাধা ছিল?
ই-পেপার