ইডি-র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় স্থগিতাদেশের আবেদন করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সোমবার সেই আবেদনকে নাকচ করে দিল হাইকোর্ট। ফলে আপাতত ফ্রিজই তৃণমূলের ওই নির্দিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। বিচারপতি কৃষ্ণরাও এই প্রসঙ্গে জানান, আদালত এই পর্যায়ে ইডি-র তরফে ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। এর অর্থ হল, মামলা চলাকালীন অ্যাকাউন্ট গুলো আপাতত ফ্রিজ-ই থাকবে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, আর্থিক তছরুপের অভিযোগ তুলে তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বলা হচ্ছে, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, একটি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া এবং এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে অর্থ পাচার, আর্থিক তছরুপের তদন্তের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর দলের তহবিল থেকে বেআইনিভাবে অর্থ সরানোর অভিযোগে, ইডির তরফ থেকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট ৯টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল,যার মধ্যে বিতর্কিত তিনটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে খবর। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, যেখানে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা ছিল, সাময়িকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। আদালত আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারির জন্য একজন স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করেছিল। পরবর্তী সময়ে ইডি-র তল্লাশি অভিযানের পর আরও বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। কালীঘাট তৃণমূলের বক্তব্য ছিল, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণের পরও কীভাবে ইডি আরও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে পারে। এই আবেদন নিয়ে তৃণমূল পরবর্তীতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসের দ্বারস্থ হয়। গত সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি শেষ হয়। যদিও ইডি-র এই অভিযোগ মানতে নারাজ মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথম থেকেই তাদের দাবি ইডি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই কাজ করছে। উল্টে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ ও স্বচ্ছ ভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন ও আয়কর বিভাগের কাছেও সমস্ত অনুদান সংক্রান্ত লেনদেনের তথ্য দাখিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মমতা শিবির। সেই কারণেই তারা দ্বারস্থ হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের। কিন্তু এদিন ইডি-র তদন্তে কোনও হস্তক্ষেপ করতে রাজি হল না কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে ফ্রিজই থাকছে অ্যাকাউন্টগুলি।