সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশন। বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সকালে সংসদ চত্বরে বক্তৃতা করেন তিনি। দেশের মহাকাশ গবেষণার নতুন স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি খাতের অভূতপূর্ব সাফল্যের প্রশংসা করতে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধিকে পরোক্ষভাবে খোঁচা দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের নতুন বেসরকারি রকেট উৎক্ষেপণ সংস্থা ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মোদী জানান, সেখানে যারা কাজ করেন, তাদের অধিকাংশই তরুণ। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, স্কাইরুটে গোটা টিমটার গড় বয়স বড়জোর ২৮। তার পরেই রাহুলের নাম না-করে তার খোঁচা, আমি কোনও ৫৬ বছরের তরুণের কথা বলছি না। এ দিন মোদী জানান, যখন তিনি ভারতের মহাকাশ গবেষণার বরাদ্দে বেসরকারি সংস্থার জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু স্কাইরুটের সাফল্য সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, যখন মহাকাশ খাতকে বেসরকারি অংশগ্রহণের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তখন অনেকেই বলেছিলেন এটা সম্ভব নয়। আজ তোমরা প্রমাণ করে দিয়েছ, দেশের যুবসমাজের উপর ভরসা রাখলে তারা অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে। সংসদের বাদল অধিবেশনে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারপক্ষের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর প্রস্ততি নিচ্ছে বিরোধীশিবির। নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে এমনিতেই সরগরম রাজধানী। এই পরিস্থিতিতে নিট ‘কেলেঙ্কারি’ নিয়ে সুর চড়াতে পারে বিরোধীরাও। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের স্বীকৃতি দেওয়া নিয়েও সরকারপক্ষের সঙ্গে সংঘাতের পথে হাঁটতে পারে বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে সোমবার মোদী বলেন, যেখানে শক্তিশালী যুক্তি থাকে, সেখানে জোরালো তথ্যও থাকে। ঝড়ের প্রয়োজন নেই। প্রতিটি কণ্ঠস্বর যেন স্থান পায়। অধিবেশন নিয়ে তার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মোদী বলেন, বর্ষা এবং বাদল অধিবেশন, দুটোই ফলদায়ক। আর যখন দুটোই ফলদায়ক হয়, তখন তা দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যায়। তাই আমরা চাই যে, বাদল অধিবেশন গঠনমূলক এবং ফলদায়ক হোক।