আর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হল রাজধানী। পুলিশের অনুমতি না মিললেও তারা এদিন জমায়েত করেন যন্তরমন্তরে। তারপর সেখান থেকে সংসদ অভিমুখে রওনা হন। আন্দোলনকে প্রতিহত করতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নামানো হয়েছিল ব়্যাফও। আন্দোলনকারীদের ওপর সকাল থেকে দফায় দফায় লাঠিচার্জ করা হয়। জমায়েত ভাঙতে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও। তবে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে, ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকের সরাতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে ভিড় সরানোর চেষ্টা করা হলেও, রাস্তায় বসে পড়েন মানুষ। সেখানেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেও ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযান পুরোপুরি রুখতে পারেনি পুলিশ। বরং পুলিশের বাধা কাটিয়েই সোমবার দুপুর নাগাদ সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে যান বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের মিছিল এগিয়ে আসতেই নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সোমবার সাত সকালেই এই কর্মসূচি ঘিরে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। সংসদমুখী মিছিল আটকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পুলিশের বক্তব্য, অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তা রুখতে কড়া পদক্ষেপ করে পুলিশ। তবে এক্স হ্যান্ডলে সংবাদ মাধ্যমের কিছু রিপোর্টকে ভুয়ো বলে উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশের তরফে বিক্ষিপ্ত হিংসা বা আটক করার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। এদিন যখন ককরোচ জনতা পার্টির অভিযান চলছিল তখন সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের সাংসদেরা। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরাও। এই পরিস্থিতিতে সিজেপি-র সংসদ অভিযান নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোঁড়া হয়।তার পরেও অবশ্য বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন। বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাদের বাসে চাপিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। ককরোচ জনতা পার্টি-র সংসদ ভবন অভিযানে সোমবার পুলিশের তরফে অনুমতি না-মিললেও ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অনড় ছিলেন সিজেপির সমর্থকেরা। বৃষ্টির মধ্যেই যন্তর মন্তর থেকে মিছিল শুরু করেন তারা। অনেকেই বর্ষাতি পরে, হাতে সংবিধান এবং জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলে শামিল হন। তবে যন্তর মন্তর চত্বরে মোতায়েন বিশাল সংখ্যক পুলিশ জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। পুলিশের লাঠিচার্জে অনেক বিক্ষোভকারী পালিয়ে যান। তবে এক যুবক পুলিশের লাঠির সামনে অবিচল ভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে এক মহিলা র্যাফ সদস্য যুবককে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।