অমৃতসর : জঙ্গি সন্দেহে ৯ জনকে গ্রেফতার করল পাঞ্জাব পুলিশ। এরা সকলেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই -এর মদত পুষ্ট জঙ্গি বলে মনে করা হচ্ছে। ধৃতরা নিট বিক্ষোভে হামলার ছক কষেছিল বলে দাবি পাঞ্জাব পুলিশের। পুলিশের দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজন সুখমন সিং। রাজাসাঁসি এলাকা থেকে তাকে ধরা হয়েছে। সুখমন জেরায় কবুল করেছে, ককরোচ জনতা পার্টির যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে ধরনা চলছিল, সেই সময়ে সেখানে হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের। সেইমতো সুখমনরা দিল্লিতে গিয়ে রেইকিও করে আসে বলে দাবি পুলিশের। পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, তারা আইএসআই-সমর্থিত দু’টি আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি মডিউলের খোঁজ পেয়েছে। সীমান্তে সন্ত্রাস চালিয়ে অস্থিরতা তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। গ্রেফতার করা হয়েছে ৯ জনকে। ধৃতদের মধ্যে চার জন নাবালকও রয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র, গোলাবারুদও। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, আইএসআই হ্যান্ডলারদের নির্দেশ মতোই কাজ করছিল তারা। বিদেশ থেকে আইএসআই-র হ্যান্ডলাররা স্থানীয় যুবকদের জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত করার চেষ্টা করছিল। তরন তারন, অমৃতসর থেকে গ্রেফতার করা হয় তাদের। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পাকিস্তান থেকে আইএসআই হ্যান্ডলারদের নির্দেশমতো কাজ করছিল এই জঙ্গিরা। স্থানীয় যুবকদের মগজধোলাই করে জঙ্গিদলে যোগ, অস্ত্র ও মাদকপাচারের মতো কাজে নিযুক্ত করার কাজ করছিল ধৃতেরা। রাজ্য পুলিশের ডিজি গৌরব যাদব বলেন, অমৃতসর কমিশনারেট পুলিশ আইএসআআই-এর মদতে পুষ্ট দুই জঙ্গি মডিউলের ন’জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, চারটি পেট্রল বোমা, ন’টি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। ডিজি জানিয়েছেন, রাজাসান্সি এলাকা থেকে তিন নাবালক-সহ চার সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয় প্রথমে। ধৃতদের মধ্যে সুখমান সিংহ জেরায় স্বীকার করেছে, আইএসআই-এর নির্দেশে তারা কাজ করছিল।
পাকিস্তান থেকে সেই নির্দেশ আসছিল। কী কী করতে হবে, সব নির্দেশ আসত সেখান থেকে। সুখমানের দাবি, দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট বিক্ষোভের সময় হামলার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল তাদের উপর। জেরায় সুখমান পুলিশকে জানিয়েছে, সঙ্গীদের নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে রেকি করে এসেছিলেন। কিন্তু বিশাল বাহিনী এবং নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো থাকার কারণে সেই ‘মিশন’ বাতিল করতে হয়। তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থলে হামলা চালানোর জন্য উত্তরপ্রদেশ থেকে তাদেরই এক সঙ্গী অস্ত্র এবং বিস্ফোরক সরবরাহ করেছিলেন। সেই বিস্ফোরক এবং অস্ত্র নিয়ে যন্তর মন্তরেও গিয়েছিল সুখমানেরা। কিন্তু হামলার সুযোগ না মেলায় পঞ্জাবে ফিরে আসে। পঞ্জাবে পুলিশকর্তাদের গতিবিধি এবং পুলিশের সদর দফতরেও রেকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সুখমানদের। পুলিশ সূত্রে খবর, জঙ্গিদের দ্বিতীয় মডিউলের হদিস মেলে ধৃতদের জেরা করে এবং সিসি ক্যামেরার সূত্র ধরে। তরণ তারণ, অমৃতসর থেকে ওই দ্বিতীয় মডিউলের পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, দিল্লি পুলিশ আগেই দাবি করেছিল, যন্তর মন্তরের নিট- প্রতিবাদের ভিড়ে অনেক দুষ্কৃতী ঢুকে পড়েছিল। তাদের চিহ্নিত করতে ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন’ ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়েছিল। তার মাধ্যমে ২৫০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়।