ঘোষণা করা হয়েছিল, "পথশ্রী" প্রকল্পে তৈরি হবে নতুন ঢালাই রাস্তা। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির ছয় মাস পরেও বাস্তবে রাস্তা যেখানে ছিল, সেখানেই রয়ে গেছে। না পড়েছে একটি ইট, না এসেছে বালি, পাথর কিংবা সিমেন্ট। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী–২ ব্লকের কাষ্ঠশালী গ্রামের মানুষ।
অভিযোগ, কাষ্ঠশালী দাসপাড়া মোড় থেকে স্রোতগঙ্গা শ্মশানঘাট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার ঢালাই নির্মাণের জন্য পথশ্রী প্রকল্পে প্রায় ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছিল প্রায় ছয় মাস আগে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন বিডিও-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক এবং শাসকদলের নেতারা। শিলান্যাসের বোর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল প্রকল্পের খরচ এবং নির্মাণকারী সংস্থার নাম—মা তারা কনস্ট্রাকশন এন্ড অর্ডার সাপ্লায়ার্স। কিন্তু বর্তমানে সেই বোর্ডই যেন প্রকল্পের একমাত্র অস্তিত্ব। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিলান্যাসের পর থেকে আর কোনও কাজই শুরু হয়নি।মমতা সরকারের এটাই বেশি দেখা যেত। শুধুই শিলান্যাস, তার পরেই বেপাত্তা। রাস্তার উপর আজও পড়েনি কোনো নির্মাণ সামগ্রীও। ফলে প্রশ্ন উঠছে, শিলান্যাস কি শুধুই লোকদেখানো ছিল? ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির প্রচার, আর তারপর সবকিছুই কি থমকে গেল? আসলে তৃনমূলের লুটে খাওয়া সরকারের নোংরা কাজের আঁচড় লাগছে বিজেপির নতুন সরকারে। সর্বত্র একই সমস্যা। বর্ষার মরশুমে এই রাস্তার বেহাল অবস্থা আরও প্রকট হয়েছে। কাদা, জল জমে চলাচল কার্যত দুঃসহ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন স্কুল পড়ুয়া, সাধারণ মানুষ, রোগী নিয়ে যাতায়াতকারী পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে শ্মশানঘাটগামী মানুষ—সবাইকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বহুবার সংশ্লিষ্ট দফতরে বিষয়টি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ করা হয়নি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন বরাদ্দ হওয়া প্রায় ২০ লক্ষ টাকা কোথায়? কাজ শুরু না হওয়ার কারণ কী? প্রশাসনিক জটিলতা, নাকি অন্য কোনও কারণ—তার কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। ফলে ক্ষোভের পাশাপাশি বাড়ছে জল্পনাও।
এলাকাবাসীর আশা, নতুন সরকারের আমলে অন্তত এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে। কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে তৈরি হবে বহু প্রতীক্ষিত রাস্তা। এখন দেখার, শিলান্যাসের ফলক পেরিয়ে আদৌ নির্মাণকাজ শুরু হয়, নাকি সেই সময়ের পথশ্রী প্রকল্পের এই রাস্তা শুধুই প্রতিশ্রুতির স্মৃতি হয়ে থেকে যায়।