এক ঝলক
ছাত্রবিক্ষোভের আড়ালে থাকা দুষ্কৃতীদের কোনো ছাড় নয় ঃ আদালত দুর্নীতি, তোলাবাজি নিয়ে সতর্ক বিজেপি,কড়া বার্তায় অগ্নিমিত্রাও কাকলির দাবি বিজেপি-গড়ে প্রশান্ত কিশোরের দলের জয় হাওড়া থেকে এসটিএফের জালে হামিমের সহযোগী আদিত্য

প্রতিশ্রুতি ব্যর্থ, কৃষি দফতরের সামনে ধূপগুড়িতে ধুন্ধুমার কান্ড

উৎপল রায়(ধূপগুড়ি) : প্রকৃতির মারের পর এবার সরকারি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোপ! বন্যায় বিঘার পর বিঘা জমির ফসল ভেসে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন যে কৃষকরা, শস্যবিমার ক্ষতিপূরণের দাবিতে ফের তারা রাস্তায় নামলেন।
Ganamadhyam
04 August, 2026


অভিযোগ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের বঞ্চিত করে বিমার টাকা ঢুকেছে এমন বহু মানুষের অ্যাকাউন্টে, যারা জীবনে আলুর চাষই করেননি! এই অনিয়ম ও বিমা বকেয়া থাকার প্রতিবাদে সোমবার ধূপগুড়ি ব্লক কৃষি দফতরের সামনে এক উত্তাল বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সামিল হলেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বন্যায় ধূপগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকার আলু চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। জল জমে পচে নষ্ট হয়ে যায় বিঘার পর বিঘা জমির ফসল। সেই ক্ষতি সামাল দিতে সরকারের ঘোষিত শস্যবিমার ওপর ভরসা রেখেছিলেন প্রান্তিক চাষিরা। কিন্তু ক্ষোভের সলতে পাকায় তখন, যখন দেখা যায় প্রকৃত সর্বস্বান্ত কৃষকরা বীমার টাকা পাননি, অথচ বিমার টাকা পেয়ে গিয়েছেন এলাকাভুক্ত অ-কৃষক এবং ভুয়ো প্রাপকরা।
উল্লেখ্য, এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে এর আগেও ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন ধূপগুড়ির কৃষকরা। সেই সময় ধূপগুড়ির ঝুমুর সংলগ্ন এশিয়ান হাইওয়ে দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। আন্দোলনের মুখে পড়ে তড়িঘড়ি পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এসেছিল কৃষি দফতর। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কাছ থেকে নতুন করে বিমার আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয় এবং দফতর থেকে স্পষ্টভাবে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, পরবর্তী এক মাসের মধ্যেই সমস্ত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত চাষির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিমার টাকা সরাসরি পৌঁছে যাবে।
কিন্তু অভিযোগ, মাস গড়িয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গিয়েছে। অ্যাকাউন্টে টাকা না আসায় সোমবার ধৈর্যচ্যুত হয়ে পড়ে কৃষকরা আবার সংগঠিত হন এবং ধূপগুড়ি ব্লক কৃষি দফতরের মূল ফটকের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন।
 এদিন বিক্ষোভ দেখানো কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা এর আগে রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করেছিলাম। তখন আধিকারিকরা এসে মিষ্টি কথা বলে আমাদের থেকে ফের আবেদনপত্র জমা নিলেন। আশ্বাস দিয়েছিলেন এক মাসের মধ্যে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে। কিন্তু আজ এতদিন কেটে গেলেও আমরা এক পয়সাও পেলাম না! অথচ যারা কোনওদিন আলু চাষই করেনি, তাদের অ্যাকাউন্টে অনেক আগেই বিমার মোটা টাকা পৌঁছে গিয়েছে। এ কোন বিচার?
একই ক্ষোভ ধরা পড়েছে অপর কৃষক দেবাশিস রায়ের কণ্ঠেও। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন:
যাদের আলু চাষে বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি, বা যারা আদতে চাষিই নন, তারা সরকারি সুবিধার টাকা তুলে পকেটে ভরছেন। কৃষকদের এই দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বিক্ষোভের জেরে সোমবার কৃষি দফতর চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে প্রশাসনিক স্তরে এই অনিয়মের কথা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। কৃষকদের এই তীব্র প্রতিবাদ ও দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ধূপগুড়ির সহ-কৃষি অধিকর্তা খুরশিদ আলম জানান, বিষয়টিতে কিছু ব্যাংকিং পরিষেবার সমস্যার জনিত কারণেই ব্যহত হচ্ছে পরিষেবা। তিনি বলেন, কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সমস্যা ও ভুয়ো তালিকার বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানির নজরে আনা হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অ্যাকাউন্টে বিমার ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছে যাবে।
প্রশাসনের এই আশ্বাসে অবশ্য পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না আন্দোলনকারী কৃষকরা। তাদের পরিষ্কার দাবি, কেবল মুখের কথায় আর কাজ হবে না। শীঘ্রই সমস্যা সমাধান না হলে, আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধূপগুড়ির কৃষক সমাজ।
ই-পেপার