এক ঝলক
ছাত্রবিক্ষোভের আড়ালে থাকা দুষ্কৃতীদের কোনো ছাড় নয় ঃ আদালত দুর্নীতি, তোলাবাজি নিয়ে সতর্ক বিজেপি,কড়া বার্তায় অগ্নিমিত্রাও কাকলির দাবি বিজেপি-গড়ে প্রশান্ত কিশোরের দলের জয় হাওড়া থেকে এসটিএফের জালে হামিমের সহযোগী আদিত্য

এক দিনেই ধূপগুড়ির দুই গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান-উপপ্রধানের ইস্তফা

উৎপল রায়(ধূপগুড়ি) : লোকসভা নির্বাচনের আবহে কি পঞ্চায়েত স্তরে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত? ধূপগুড়ি ব্লকের একই দিনে জোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানদের গণইস্তফা ঘিরে বর্তমানে সরগরম জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক মহল।
Ganamadhyam
04 August, 2026



পদত্যাগের নেপথ্যে কেবলই 'ব্যক্তিগত কারণ', নাকি নেপথ্যে রয়েছে গভীর কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ—তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তর থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, সর্বত্রই তুঙ্গে উঠেছে চর্চা।
​সোমবার সকালে ধূপগুড়ি ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের (বিডিও) দফতরে তৈরি হয় এক নজিরবিহীন দৃশ্য। একে একে দফতরে হাজির হন ব্লকের মাগুরমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বনশ্রী রায় ও উপপ্রধান শিবাস রায়। তার কিছু পরেই বিডিও দফতরে পৌঁছান মাগুরমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সীমা রায় ও উপপ্রধান নূর হোসেন। বিডিও-র হাতে চার জনই আলাদাভাবে নিজেদের ইস্তফাপত্র তুলে দেন। একই দিনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চায়েতের শীর্ষ জনপ্রতিনিধিদের এমন আকস্মিক পদত্যাগে কার্যতই থমকে গিয়েছে প্রশাসনিক অলিন্দ।
​ইস্তফা জমা দিয়ে বেরিয়ে আসার পর মাগুরমারি-১ পঞ্চায়েতের বিদায়ী প্রধান বনশ্রী রায় জানান, নতুন সরকার এসেছে। তারা ভালোভাবে কাজ করুক এবং সাধারণ মানুষ যাতে আরও উন্নত পরিষেবা পান, সেই কামনাই করি। প্রধানত ব্যক্তিগত কারণেই আমি আজ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।
​অনুরূপ সুর শোনা গিয়েছে মাগুরমারি-২ পঞ্চায়েতের বিদায়ী প্রধান সীমা রায়ের গলাতেও। তিনি বলেন, "ব্যক্তিগত নানা  কারণের জন্যই পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত। আশা করছি, আগামী দিনে নতুন যারা দায়িত্বে আসবেন, তারা মানুষের কল্যাণে আরও ভালো কাজ করবেন।
​তবে 'ব্যক্তিগত কারণ'-এর সাফাই দিলেও এক দিনে চার শীর্ষ পদে থাকা জনপ্রতিনিধির একযোগে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সহজে হজম করতে পারছে না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। একাংশের মতে, পঞ্চায়েতের অন্দরে দলীয় কোন্দল বা প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতেই এই ইস্তফা। আবার অন্য অংশের মতে, এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
​ঘটনাটি সামনে আসতেই সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। তবে বিজেপির ধুপগুড়ি পশ্চিম মন্ডল সম্পাদক রতন রায়  কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিয়ে জানান, "আমরা শুনেছি প্রধানরা ব্যক্তিগত কারণেই দায়িত্ব ছেড়েছেন। তবে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে এলাকায় সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে অনেক ভালো পরিষেবা পাচ্ছেন, এটাই বাস্তব।
​একই দিনে দুই পঞ্চায়েতে শাসক মুখদের এই গণইস্তফার পেছনে প্রশাসনিক কোনো অদৃশ্য নির্দেশ রয়েছে, নাকি নিছকই দলীয় রাজনীতি—তা নিয়ে জলঘোলা অব্যাহত। যদিও বিতর্ক এড়াতে ধূপগুড়ি ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে ধূপগুড়ির স্থানীয় রাজনীতিতে আরও বড় কোনো চমক অপেক্ষা করে রয়েছে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ব্যক্তিদের।
ই-পেপার