বিধায়কের উদ্যোগে ভেরি সিন্ডিকেট বন্ধ করে সরকারের কোষাগারে গেল টাকা
তরুণ তাঁতি (হুগলি): বিধায়কের উদ্যোগে সরকারি কোষাগারে ঢুকলো অর্থ। ভেরি সিন্ডিকেট বন্ধ করে সরকারি ভেড়ির মাছ চাষের টাকা এবার সরাসরি গেল সরকারি কোষাগারে। সরকারি ভেড়ি থেকে দীর্ঘদিন ধরে মাছ লুট এবার রুখে দিতে এগিয়ে এলেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী।
উত্তরপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত হিন্দুস্তান মোটর কারখানা সংলগ্ন ফাঁকা জমিতে অসংখ্য ভেরি রয়েছে। বিগত দিনে এই জমি হিন্দুস্তান মোটরস কারখানার ছিল। তবে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই জমি অধিগ্রহণ করেছিল বিগত তৃণমূল সরকার। তারপর থেকেই বিস্তীর্ণ জলা জমি বা ভেড়ি গুলোতে মৎস্যচাষীদের কাছ থেকে দুষ্কৃতীরা কোটি কোটি টাকা তোলা আদায় করতো মাছ চাষ করতে দেওয়ার বিনিময়। রাজ্য সরকারের কোষাগারে মাছ চাষের বিনিময়ে একটি টাকাও জমা পড়তো না। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর উত্তরপাড়ার বিধায়কের নজরে আসে গোটা বিষয়টি। তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট, এসডিও, মৎস্য দপ্তর, এবং বি এল আর ও দপ্তরে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানান। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও এই বিষয়ে লিখিত ভাবে অভিযোগ করেন বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। এরপরেই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। এরপরই শ্রীরামপুরের মহকুমা শাসকের নির্দেশে মৎস্য দপ্তর ভেড়ির মাছ অকশনের ব্যবস্থা করে। অকশনের পরবর্তী পর্যায়ে আজ(বৃহস্পতিবার )থেকে যিনি অকশনে সর্বোচ্চ দাম দিয়েছেন তিনি প্রশাসন ও বিধায়কের উপস্থিতিতে ভেরি থেকে মাছ তোলার কাজ শুরু করেন এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত ভেরির মাছ ধরবেন বলে ঠিক হয়। কিন্তু আশঙ্কা ছিল মাছ ধরার সময় ভেড়ি মাফিয়ারা হামলা চালাতে পারে। তাই আজ প্রথম দিন বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী নিজে উপস্থিত ছিলেন ভেরী থেকে মাছ ধরার সময়। উপস্থিত ছিলেন মৎস্য দপ্তর এবং ভূমি রাজস্ব দপ্তরের অধিকারীকরা। পুলিশি পাহারায় অবশেষে সুষ্ঠুভাবে মাছ ধরার কাজ হয়। উত্তরপাড়ার বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী জানান দীর্ঘদিন যাবত এই ভেড়ি গুলোকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা তোলাবাজি করেছে বিগত সরকারের তৃনমূল দলের আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী। রাজ্য সরকারের কোষাগারে একটি টাকাও জমা পড়েনি। যেহেতু এগুলো সরকারি ভেড়ি তাই এখানকার সমস্ত মাছের অধিকারও রাজ্য সরকারের। নির্দিষ্ট অকশনের পদ্ধতি মেনে আজ থেকে মাছ তোলার কাজ শুরু হলো। পরবর্তী পর্যায়ে আগামী দিন এই জলাশয় গুলোকেও অকশন করা হবে। রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার এসছে। দুষ্কৃতীদের রাজত্বের দিন শেষ হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে সর্বত্র চুরি ,তোলাবাজি, রাহাজানি হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের ধার ৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই ধার আমাদের মেটাতেই হবে। তাই রাজ্য সরকারের কোষাগার যাতে বৈধ উপায়ে এইভাবে কিছুটা অর্থ জমা করতে পারি সেই লক্ষ্যেই আমরা সরকারি ভেড়ির মাছ ধরে অকশনের মাধ্যমে রাজস্ব জমা করালাম। এবং আগামী দিন এই ভেড়িগুলো থেকে রাজ্য সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। বিধায়ক বলেন, এখানে তোলাবাজি, দাদাগিরি, বা সিন্ডিকেট আর চলবে না, যে বা যারা এখানে নাক গলাতে আসবে তাদের নাক ধরেই জলের মধ্যে চোবাবো। এমনকি আমাদের দলের কেউ এলেও সে ছাড় পাবে না।( ছবি: জ্যোতির্ময় বসু)