নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘সিট’ গঠন করে আরজি কর কাণ্ডের তদন্ত নতুন করে শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই মতোই তদন্ত শুরু হয়েছে। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে ১২ নম্বর স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই।
তদন্তে সেই তদন্তের কতটা অগ্রগতি হলো, সেই ব্যাপারে এ দিন রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। বদল করে দেওয়া হয়েছে আর জি করের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন মামলার তদন্তকারী আধিকারিককে।অভয়ার বাবা- মায়ের দাবি মেনে সীমা পাহুজাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বদলে সন্দীপনী গর্গকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নতুন করে গঠিত সিট তদন্ত শুরু করেছে জানান সিবিআইয়ের আইনজীবী পার্থসারথী দত্ত। আগের যারা ছিলেন তারা তদন্ত করতে পারেননি বলেই অভিযোগ অভয়ার বাবা-মায়ের আইনজীবী অমর্ত্য দে এবং রাজদীপ হালদারের। তারা জানান, নতুন সিট কী তদন্ত করে তা দেখতে হবে। সন্দীপনি গর্গকে বৃহস্পতিবার শিয়ালদহ আদালতে হাজির ছিলেন। নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল আদালতে তিন পাতার একটি স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই সঙ্গে এই মামলার নথি খতিয়ে দেখার জন্য আরও কিছুটা সময় চাওয়া হয়েছে।আরজি কর-কাণ্ডের নতুন তদন্তকারী অফিসার সন্দীপনি বৃহস্পতিবার আদালত চত্বরে নির্যাতিতার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তার হাত ধরে তাকে আশ্বস্ত করেন এবং তদন্তের উপর ভরসা রাখতে বলেন। আদালতের নির্দেশে যে নতুন তদন্তকারী দলটি তৈরি করা হয়েছে, তার নেতৃত্বে রয়েছেন সিবিআইয়ের যুগ্ম ডিরেক্টর অনুরাগ কুমার এবং আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তকারী অফিসার মণীশ উপাধ্যায়। সিবিআইয়ের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, এই মামলার ১০০০ পাতার নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতার বাবা এবং মায়ের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তবে নতুন দলের গোটা প্রক্রিয়ায় বাড়তি কিছুটা সময় লাগবে। নির্যাতিতার পক্ষের আইনজীবী হিসাবে শিয়ালদহ আদালতে ছিলেন অমর্ত্য দে। তিনি জানান, নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার থেকে সৎকার পর্যন্ত এবং তার পরবর্তী সময়ে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা আগের তদন্তকারী দলকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছিল। এ ছাড়াও আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখার কথা ছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। আগের তদন্তকারীরা কত দূর কাজ করেছেন, তা নতুন দল খতিয়ে দেখুক এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করুক। নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বর্তমান বিধায়ক আদালতে জানান, তার কন্যার সঙ্গে শেষ বার যাদের দেখা গিয়েছিল, তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তবে বিচারের বিষয়ে নতুন সরকারের উপর তিনি আস্থাশীল। নির্যাতিতার মা বলেন, ‘‘এটা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। তাই কিছু বলতে চাই না। তবে আমাদের নতুন সরকার এসেছে। কঠোর ভাবে সব কিছু দেখা হচ্ছে। কিছু দিন আগে বিধানসভায় একসঙ্গে চার জন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হল। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কোনও দুর্নীতি সহ্য করবেন না। আমার তার উপর সম্পূর্ণ ভরসা আছে। নতুন সরকার ঠিক বিচার দেবে।’