নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকবেন না ঃ মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব সংবাদদাতা: কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল দেওয়ার দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার পর শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছিল, খুদেদের পাতে কি আর ডিম থাকবে না? তবে মিড-ডে মিলে শুধু নিরামিষ খাবার নয়, ডিমও পাওয়া যাবে।
এমনটাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন থেকে তিনি বলেন, ইসকন খাবার দিলেও মিড ডে ডিম দেবে রাজ্য সরকার। শুভেন্দু অধিকারী জানান, আলাদা করে মিড-ডে মিলে ডিম দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। ১ আগস্ট থেকেই তা কার্যকর হবে। তার কথায়, ছাত্রছাত্রীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের যাতে প্রোটিনযুক্ত সম্পূর্ণ আহার দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থাই করা হল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মিড ডে মিলের বৈষম্য দূর করা হয়েছে। হাই স্কুল ও আপার প্রাইমারিতে মিড ডে মিলের বরাদ্দ ছিল ১০ টাকা। প্রাইমারিতে ছিল ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। এই বৈষম্য দূর করে প্রাইমারি স্কুলগুলির ক্ষেত্রেও পড়ুয়া পিছু মিড ডে মিলের জন্য বরাদ্দ ১০ টাকা করা হয়েছে। আগেই স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল দেওয়ার দায়িত্ব ইসকনকে দিয়েছে রাজ্য সরকার। ১ আগস্ট থেকে সেই কাজ শুরু করবে ইসকন। সেদিন কলকাতার একটি বড় অংশের স্কুলগুলিতে পাইলট প্রোজেক্টের মাধ্যমে মিড ডে মিল দেওয়ার কাজ শুরু হবে। শুধু কলকাতার স্কুলগুলিতে নয়, রাজ্যের সব সরকারি স্কুলেই মিড ডে মিল দেওয়ার দায়িত্বে থাকছে ইসকন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্কুল গুলিতে শুদ্ধ, প্রোটিনযুক্ত খাবার পরিবেশন করবে ইসকন। তার বাইরে এসএইজি গ্রুপের মাধ্যমে প্রোটিনযুক্ত ডিম আলাদা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। যাতে ছাত্রছাত্রীদের প্রোটিনযুক্ত সম্পূর্ণ আহার দিতে পারি। উল্লেখ্য, এতদিন রাজ্য সরকারের স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলে ডিম দেওয়া হত। রাজ্যে পালাবদলের পর মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হয় ইসকনকে। ইসকন সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার পরিবেশন করে। রাজ্য সরকার ও ইসকনের বক্তব্য ছিল, ডিম ছাড়াও অন্য নিরামিষ খাবার থেকেও প্রোটিন পাওয়া যায়। এই নিয়ে বিতর্কের মাঝে এবার আলাদা করে পড়ুয়াদের পাতে ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। ইসকন নিরামিষ খাবারই পরিবেশন করবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে স্কুলের পড়ুয়াদের আলাদা করে ডিম দেবে সরকার। শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগের বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকবেন না। চলতি শিক্ষাবর্ষেই ৫০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে। শুভেন্দু বলেন,শিক্ষক,শিক্ষাকর্মী, প্রধান শিক্ষক, ক্রীড়া শিক্ষক, লাইব্রেরিয়ান— সব পদ শূন্য। নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে অনেক। সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। এসএসসি-তে রাজনৈতিক নিয়োগ সম্পূর্ণ বন্ধ করেছি। কোনও নিয়োগের ক্ষেত্রে আর রাজনৈতিক কোনও ব্যক্তি থাকবেন না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। ৬০০০ ইন্টারভিউ বাকি ছিল। সেটাও হয়ে যাবে। আগামী দিনে আর কোনও সমস্যা থাকবে না। আমাদের আশা, বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী ১২ হাজার শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী নিয়োগের পর আরও অন্তত ৩৮ হাজার, অর্থাৎ ধাপে ধাপে এই শিক্ষাবর্ষে ৫০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে নিয়োগ করতে পারব।