সেই সম্পত্তির বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অবিশ্বাস্য বিনিয়োগের নেপথ্যের কাহিনি বললেন বলিউডের এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। এক সাক্ষাৎকারে জিতেন্দ্র জানান, প্রয়াত অভিনেতা ভারত ভূষণ তখন তীব্র আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে ছিলেন। বাধ্য হয়েই পালি হিলের বাংলোটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই প্রস্তাবই আসে জিতেন্দ্রের কাছে।
অভিনেতার কথায়, ‘‘ভারত ভূষণ তখনকার দিনের বিরাট তারকা। ‘বৈজু বাওরা’র মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। তিনি নিজেই আমাকে বাংলোটি কেনার প্রস্তাব দেন। বাবার সঙ্গে আলোচনা করার পর ঠিক করি, আমরা বাংলোটি কিনব। তার আগে পর্যন্ত আমরা অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেছি। একটি ছোট ঘরে আটজন একসঙ্গে থাকতাম। শেষ পর্যন্ত ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় বাংলোটি কিনে নিই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, ওই দামের মধ্যেই প্রায় ৩,৪৫০ বর্গফুট জমিও ছিল।’’ তবে নতুন বাড়িতে আসার কিছু দিনের মধ্যেই টানা চারটি ছবি বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল অভিনেতার। সেই সময়ে জিতেন্দ্র কিছুটা ভয় পেয়েছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, ভারত ভূষণের মতো তিনিও হয়তো আর্থিক সমস্যায় পড়তে পারেন। সেই কুসংস্কার থেকেই শেষ পর্যন্ত বাংলোটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
যদিও সময়ের সঙ্গে সেই সম্পত্তিই তাঁর জীবনের অন্যতম লাভজনক বিনিয়োগে পরিণত হয়। পরে এক নির্মাতা সংস্থা পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব দিলে তাতে সম্মতি জানান জিতেন্দ্র। তখনই আরও এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। অভিনেতা জানান, বাংলোটি ভাঙার সময়ে সেটি নির্মাণে ব্যবহৃত কাঠ বিক্রি করেই তিনি প্রায় ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পান। অথচ গোটা বাংলোটি কিনেছিলেন মাত্র ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায়। তাঁর কথায়, ‘‘বিশ্বাস করা কঠিন, কিন্তু বাংলো ভাঙার পরে শুধু কাঠ বিক্রি করেই ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। যে দামে পুরো বাংলোটি কিনেছিলাম, তার থেকেও অনেক বেশি।’’
দশকের পর দশক ধরে মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকায় জমির দাম যে কীভাবে আকাশছোঁয়া হয়েছে, জিতেন্দ্রের এই অভিজ্ঞতা তারই এক বিরল উদাহরণ। যে সম্পত্তি একসময়ে কয়েক লক্ষ টাকায় কেনা হয়েছিল, আজ তার মূল্য কয়েকশো কোটিতে পৌঁছে গিয়েছে।