সোদপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় স্ত্রীকে কুপিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা স্বামীর
নিজস্ব প্রতিনিধি(ব্যারাকপুর):স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন। এরপরই আত্মহত্যার চেষ্টা স্বামীর। মঙ্গলবার সকালে হাড়হিম করা ঘটনা ঘটেছে খড়দা থানার সোদপুর স্কুল রোডের ফিউচার গেট এলাকায়। মৃতার নাম গীতা দাস (৩৩)। তার বাড়ি সোদপুর মহেন্দ্রনগরে। অভিযোগ উঠেছে, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীকে রক্তাক্ত করার পর অভিযুক্ত যুবক নিজের পেটেও ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর জখম সুভাষ দাস কামারহাটির সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই উভয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এদিন বচসা থেকেই এই রক্তারক্তি ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ বছর আগে সোদপুর মাহেন্দ্রনগরের বাসিন্দা গীতার সঙ্গে ভালোবাসার বিয়ে হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা সুভাষ দাসের। বিয়ের কিছুদিন বাদেই গীতা জানতে পারেন সুভাষের আরেকটি বউ আছে। এরপর গীতা সোদপুরে বাপের বাড়িতে চলে আসেন। এদিন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোদপুর স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন গীতা। স্কুল রোডে তার পথ আটকায় স্বামী সুভাষ। দু'জনের মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়। আচমকাই ওই যুবক একটি ধারালো ছুরি বের করে গীতা দাসের উপর এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তরুণী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। অভিযোগ, তাদের দিকেও ছুরি নিয়ে তেড়ে যান ওই অভিযুক্ত যুবক। পরে নিজের গলায় ছুরি মেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়দহ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। গুরুতর আহত অবস্থায় দু'জনকে উদ্ধার করে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা গীতা দাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় অভিযুক্ত যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এমন ঘটনার দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত এলাকার মানুষজন।