অবশেষে যশোর রোডের পাশে আতঙ্কের মরা শিশু গাছ কাটা শুরু
সোমনাথ পাল( বনগাঁ): বিগত কয়েক বছরে বেঘোরে প্রাণ গিয়েছে বেশ কয়েকজনের। শুধুই কি মৃত্যু। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গাছের মোটা ডাল ভেঙে কারও গিয়েছে দোকান ঘর আবার কারও গিয়েছে সখের গাড়ি।
অবশেষে আতঙ্কের দিন শেষ। এক কথায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে শুরু হল যশোর রোডের দুধারে থাকা মরা শিশু গাছ কাটার কাজ। সোমবার বনগাঁর খলিতপুর এলাকা থেকে এই কাজের সূচনা করে স্থানীয় প্রশাসন। দেখা যায় বৃষ্টি কে উপেক্ষা করেই বেশ কয়েকজন কাঠুরে যশোর রোডের পাশে থাকা মরা শিশু গাছের ডাল কেটে সাফ করছেন।কাঠুরিয়াদের অসুবিধা দূর করতে রাস্তার যানজট সমস্যা মেটাচ্ছে পুলিশ । সর্বপরি জাতীয় সড়ক বলে কথা। গাছ কাটা নিয়ে সাধারণ মানুষ বলেন, এবার আতঙ্ক থাকল না। মরা গাছ গুলোর এমন অবস্থা কখন ভেঙে পড়ে তার ঠিক নেই। রাস্তায় প্রাণ হাতে করে বেরোতে হতো। এ নিয়ে রাজ্যের নয়া সরকার সহ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী তথা বনগাঁ উত্তরের বিধায়ককে ধন্যবাদ দেন এলাকার মানুষ। দেওয়াই স্বাভাবিক। বিগত পনেরো বছর কম কিছু হয়নি। তবু কাটা যায়নি বিপজ্জন্নক গাছ ও গাছের ডাল। পরিবেশ কর্মীদের আন্দোলনের জেরে যশোর রোডের পাশে থাকা বিপজ্জনক গাছ কাটা তো দুরস্থ। ছাঁটা যায়নি গাছের ডাল ও। যার জেরে আটকে যায় যশোর রোড সম্প্রসারণের কাজ। তবে এরইমধ্যে বনগাঁ শহরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা গাছ কেটে দেয় পুরসভা। তা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। পাল্টা মরা শিশু গাছ কাটার দাবিতে মাঝে মধ্যেই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এক এক এলাকার স্থানীয় মানুষ। তবে রাজ্যে পালা বদলের পরই যশোর রোডের দুপাশে থাকা প্রাণঘাতী মরা শিশু গাছ কাটার উদ্যোগ নেন স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী অশোক কীৰ্তনীয়া। এরইমধ্যে মরা গাছের ডাল ভেঙে বেঘোরে প্রাণ যায় বনগাঁর সিকদার পল্লীর এক যুবকের। ঘটনায় ক্ষতি পূরণ বাবদ মৃতের পরিবার কে ৪ লক্ষ টাকাও দেন মন্ত্রী। সে দিনই যশোর রোডের মরা গাছ দ্রুত কেটে ফেলার কথা জানান বনগাঁর মহকুমা শাসক শুভম মৌর্য্য। তিনি বলেন, মোট ৫০০ টি গাছ কে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে ১১১ টি গাছ কাটার টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৩৮৯ টি গাছও ওই একই ভাবে টেন্ডার করে কাটা হবে। আর যেন কারও ক্ষতি না হয় তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।