একই জায়গায় স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু বাঘের আক্রমণে ব্যবধান ১২ বছর
হাসান লস্কর(সুন্দরবন): কাকতালীয় ভাবে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু একই জায়গায়। ১২ বছর আগে বাঘের আক্রমণে নিহত হয়েছিলেন স্ত্রী রুমকি,এবার সেই সুন্দরবনের কলস জঙ্গলে বাঘের হামলায়, ১১ সঙ্গীর সামনেই মৌলেকে টেনে নিয়ে গেল গভীর অরণ্যে এখনও মেলেনি মৃতদেহ।
এই সেই সুন্দরবনের সংরক্ষিত জঙ্গল কলস ১২ বছর আগে বাঘের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন স্ত্রী, এবার নিখোঁজ স্বামী, শোকে ভেঙে পড়েছে পরিবার সহ গোটা গ্রামবাসী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার
পাথরপ্রতিমা সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে আবারও বাঘের হামলার শিকার এক মৌলে। ১১ জন সঙ্গীর সামনেই এক মৌলেকে ঘাড় ধরে টানতে টানতে জঙ্গলের গভীরে নিয়ে যায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
ঘটনার পর থেকে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও এখনও পর্যন্ত তার জীবিত বা মৃত কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে, সঙ্গীসাথী ও সমগ্র এলাকাজুড়েও।
জানা গেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের পশ্চিম দ্বারিকাপুর এলাকার বাসিন্দা ভানু ভক্তা বৈধ মৌল পাস নিয়ে ১১ জন সঙ্গী, যার মধ্যে ছিলেন তিনজন মহিলা, তাদের সঙ্গে মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কলস দ্বীপ সংলগ্ন জঙ্গলে যান। মঙ্গলবার দুপুরে সবাই যখন মৌচাকের সন্ধানে ব্যস্ত, সেই সময় আচমকাই একটি বাঘ ভানু ভক্তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাড়ে কামড়ে ধরে তাকে গভীর জঙ্গলের দিকে টেনে নিয়ে যায়।সঙ্গীরা হাতে থাকা লাঠি নিয়ে তাকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা চালান। কিন্তু বাঘ বারবার তেড়ে আসায় তারা অসহায় হয়ে পড়েন। পরে বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েও ভানু ভক্তার কোনও খোঁজ মেলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ সকালে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তার সঙ্গীরা।এই ঘটনায় আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে ভানু ভক্তার পারিবারিক ইতিহাস। প্রায় ১২ বছর আগে তার স্ত্রী রুমকি ভক্তাও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। দুদিন পর তার দেহ উদ্ধার হয়েছিল। এবার স্বামীর ক্ষেত্রেও একই পরিণতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন পরিবার।
এলাকাবাসীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের জঙ্গলনির্ভর জীবিকার সঙ্গে যুক্ত এই অসহায় পরিবারটির পাশে সরকার যেন দাঁড়ায় এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার ব্যবস্থা করুক।