মুখ্য সমাচার :
আপনারা সহযোগীতা করুন, পশ্চিমবঙ্গ আবার তার স্বগরিমায় ফিরে আসবে ঃ শুভেন্দু অধিকারী শুভেন্দুর গড়ে ধরাশায়ী তৃণমূল

আপনারা সহযোগীতা করুন, পশ্চিমবঙ্গ আবার তার স্বগরিমায় ফিরে আসবে ঃ শুভেন্দু অধিকারী

পাপড়ি চ্যাটার্জি : আজ রাজ্য বাজেট পেশ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের কাছে এই বাজেটকে পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিকাশ ও উত্তরাধিকারের বাজেট বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আপনারা হয়তো অনেকেই একে 'পূর্ণাঙ্গ বাজেট' বলছেন, কিন্তু আমি একে বলব আট মাসের বাজেট।
Pressman
23 June, 2026


যেহেতু আমাদের সরকারের সময়সীমা দুটি অর্থবর্ষের মধ্যে পড়েছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী আমরা পুরো ১২ মাসের বাজেট পেশ করার সুযোগ পাইনি। বিগত সরকার এপ্রিল থেকে জুলাই—এই চার মাসের জন্য একটি 'ভোট অন অ্যাকাউন্ট' পেশ করেছিল, যার মাধ্যমে এতদিন রাজ্যের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল। আজকে মাননীয় অর্থমন্ত্রী কৃতি শিক্ষাবিদ ড. স্বপন দাশগুপ্ত মহাশয় আগামী ৩১শে মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সময়ের জন্য এই বাজেট পেশ করেছেন।মাননীয় অর্থমন্ত্রী মোট ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি অঙ্কের এই বাজেট পেশ করেছেন। এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো পাঁচটি শক্তিকে (সেবা শক্তি, শিল্প শক্তি, জ্ঞান শক্তি সহ পাঁচ শক্তি) সামনে রেখে রাজ্যের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা। এখানে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, হারিয়ে যাওয়া গরিমার পুনরুদ্ধার এবং সময়ের ডাককে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।এই বাজেটে কর্মসংস্থানের জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে যে তিনটি দিকের কথা বলে আসছি, সেই  ত্রি-ধারা' বা 'ত্রিশক্তি' পরিকল্পনাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে – ১) সরকারি প্রাথমিক কর্মসংস্থান: এই অর্থবর্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ১ লক্ষ নতুন নিয়োগ করা হবে। যার মধ্যে ২০,০০০ পুলিশ এবং ৫০,০০০ শিক্ষক, শিক্ষিকা, অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মী পদে নিয়োগ হবে। বাকি ৩০,০০০ নিয়োগ হবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পদে। সবচেয়ে বড় কথা, নিয়োগ কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকবে না, ইউপিএসসি মডেল অনুসরণ করে স্বচ্ছ নিয়োগ হবে।২)বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ ফুড প্রসেসিং এবং এমএসএমই সেক্টরে ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে। শিল্পে বিনিয়োগ টানতে ল্যান্ড সিলিং আইন পর্যালোচনা করা হবে। যে সমস্ত শিল্পপতিরা ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন, তাদের পঞ্চায়েত বা লোকাল বডি থেকে কোনো আলাদা অনুমোদন নিতে হবে না। সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমের মাধ্যমে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও কাটমানি বন্ধ করে ব্যবসার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হবে। পূর্বতন সরকার যে ইনসেন্টিভ স্কিম বন্ধ করে দিয়েছিল, আমাদের সরকার তা ফিরিয়ে এনে ৫,০০০ কোটি টাকার প্রোভিশন রেখেছে।
 ৩) ব্যবসা ও স্বনির্ভরতা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা, পিএমইজিপি এবং বিশ্বকর্মা যোজনার মাধ্যমে ভর্তুকির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার বড় দায়িত্ব নিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সরকার কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ধান ক্রয়ে কুইন্টাল প্রতি ২৫০০ টাকার পাশাপাশি আরও ২০০ টাকা বাড়তি দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। ধাপে ধাপে আমরা প্রতিশ্রুতি মতো এটি ৩১০০ টাকা করব।প্রধানমন্ত্রী কৃষি সেচ যোজনা এবং মৃত্তিকা পরীক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি পিএম কিষাণ সম্মান নিধিতে কেন্দ্র সরকারের ৬,০০০ টাকার সাথে রাজ্য আরও ৩,০০০ টাকা অতিরিক্ত দেবে। আলু চাষীদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ এবং কোল্ড স্টোরেজ পরিবহনে ভর্তুকি দেওয়া হবে। সবচেয়ে বড় ঘোষণা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের মাশুলে ইউনিট প্রতি ২ টাকা ছাড় দেওয়া হয়েছে, যার জন্য রাজ্য সরকারের ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও ড্রপ-আউট রোধ– মহিলাদের জন্য ৩,০০০ টাকা ইতিমধ্যেই ২৮ লক্ষ উপভোক্তা পেয়েছেন, আগামী ১লা জুলাই থেকে আরও ১ কোটি ৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে। এর জন্য ৩৬,০০০ কোটি টাকার প্রোভিশন রাখা হয়েছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ছাত্রীদের ড্রপ-আউট আটকাতে এককালীন ৫০,০০০ টাকা দেওয়া হবে। মাতৃ বন্দনা ও পুষ্টি কিট –পিএম মাতৃ বন্দনা যোজনার ৫,০০০ টাকার সাথে আরও ১৬,০০০ টাকা যুক্ত করে মোট ২১,০০০ টাকা এবং ৫টি পুষ্টিকর কিট দেওয়া হবে। সরকারি বাসে মহিলাদের সুরক্ষায় জিরো ভ্যালু টিকিটের জন্য একটি 'পিঙ্ক কার্ড' চালু করা হচ্ছে। মহিলাদের সুরক্ষায় মহকুমা ভিত্তিক থানা এবং মহিলা পুলিশ কর্মীদের নিয়ে দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন (দুর্গা স্কোয়াড) গড়া হচ্ছে।
 পাহাড়ে নিয়োগ– ইএফআর -এ দীর্ঘদিন নিয়োগ ছিল না, সেখানে ১০০০ নতুন নিয়োগ হবে, যার ৩০ শতাংশই হবে আমাদের বোনেদের জন্য। সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া এরিয়ার (১৬ থেকে ১৯ পর্যন্ত) আমরা অনেকটাই ক্লিয়ার করেছি, বাকিটাও ফান্ডের প্রাপ্যতা অনুযায়ী দিয়ে দেওয়া হবে। কেন্দ্রের সাথে রাজ্যের ডিএ-র যে ৪২% তফাত ছিল, তার মধ্যে ২০% ডিএ আমরা ডিক্লেয়ার করে দিয়েছি, যা অক্টোবরের পূজোর মাসেই একাউন্টে চলে আসবে কর্মচারীদের জন্য 'সেভেন্থ পে কমিশন' গঠনের কমিটি গড়া হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার, যাতে জানুয়ারি থেকেই তা কার্যকর করা যায়। যুবকদের জন্য ভাতা– আগামী অক্টোবর মাস থেকে গ্র্যাজুয়েট যুবকরা মাসে ৩,০০০ টাকা এবং অ-গ্র্যাজুয়েটরা ২,০০০ টাকা করে পাবেন (যাদের পারিবারিক আয় মাসে ১ লক্ষ টাকার নিচে)।
স্বাস্থ্য ও মিড-ডে মিল– সরকারি হাসপাতালে রোগীর ডায়েটের খরচ ৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে। মিড-ডে মিলের বরাদ্দ সাড়ে ৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। সমস্ত হাইস্কুল ও মহিলা কলেজে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে এবং মিড-ডে মিলের রান্নার জন্য ১০০% গ্যাসের ব্যবস্থা করা হবে। মিড-ডে মিলের রান্নার দায়িত্ব পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কলকাতায় 'ইস্কন'-কে দেওয়া হচ্ছে।
 আইন-শৃঙ্খলা ও পরিকাঠামো– আইন-শৃঙ্খলা সুদৃঢ় করতে পুজোর আগেই ১৬,০০০ নতুন কনস্টেবল রাস্তায় নামানো হচ্ছে। এছাড়া সড়ক, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর এবং সমুদ্রবন্দর তৈরির মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি করা হবে।হলদিয়া-নন্দীগ্রাম, সাগরদ্বীপ, বীরভূম, দুর্গাপুর- বাঁকুড়া সহ মোট ৫টি বড় সেতু নির্মাণের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরের ভাঙন রোধে বড় প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে।পরিশেষে বলব, এই সরকার স্বামী বিবেকানন্দ, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং রামকৃষ্ণ মিশনের ভাবধারায় দীক্ষিত। সমস্ত সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি রক্ষা ও আদিবাসীদের কল্যাণে (ধরতি আবা, একলব্য স্কুল, আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়) এই বাজেট এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। আপনারা সবাই সহযোগিতা করুন,পশ্চিমবঙ্গ আবার তার নিজের গরিমায় ফিরে আসবে।
ই-পেপার