কলেজ পড়ুয়াদের সিজিপি’তে যোগদানে বিপুল অঙ্কের টাকার টোপ, অভিযোগে সরব পুরশুড়ার বিধায়ক
নিজস্ব সংবাদদাতা (হুগলি): কলেজ পড়ুয়াদের সংগঠনে যোগ দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব! অঙ্কটা শুনলে চমকে উঠতে হয়—প্রায় ৯৪ থেকে ৯৬ লক্ষ টাকা! এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন হুগলির পরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ। তার দাবি, কলেজ পড়ুয়াদের মোবাইলে এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ‘সিজিপি’-তে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। আর সেই প্রস্তাবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা পাওয়ার প্রলোভন।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি অনুষ্ঠানে এই দাবি করেন বিধায়ক বিমান ঘোষ। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে কলেজ পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে এই ধরনের বার্তা পাঠানো হচ্ছে। বিপুল অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি তার।
বিমান ঘোষের বক্তব্য, ‘সিজিপি’ একটি দেশবিরোধী সংগঠন এবং এর মাধ্যমে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা চলছে। তার অভিযোগ, দেশের মাটিতে থেকে দেশেরই ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই বিষয়টিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলেও জানান। গোটা ঘটনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি, তার হাতে থাকা তথ্য সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের কাছে তুলে দেওয়া হবে বলেও দাবি করেছেন।
বিধায়কের এই অভিযোগের পর একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। সত্যিই কি কলেজ পড়ুয়াদের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বার্তা পাঠানো হচ্ছে? কারা পাঠাচ্ছে এই বার্তা? প্রস্তাবের পিছনে কোনও সংগঠিত পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।তবে যে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কথা বলা হচ্ছে, তার সত্যতা, প্রেরকের পরিচয় এবং অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবের বাস্তবতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? তাদের কার্যকলাপের সঙ্গে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনও বিষয় জড়িত রয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিধায়কের বক্তব্যকে ঘিরে সংগঠনের রাজনৈতিক দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের প্রসঙ্গ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তবে এই বিষয়গুলির মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে, এমন কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। কলেজ পড়ুয়াদের মতো তরুণ প্রজন্মকে ঘিরে এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের পিছনে প্রকৃত সত্য কী, কোনও আর্থিক প্রলোভন দেখানো হয়েছে কি না এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত—সেই প্রশ্নগুলির উত্তর পেতে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার, বিধায়ক বিমান ঘোষের তোলা এই বিস্ফোরক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের তরফে কোনও বক্তব্য সামনে আসে কি না। অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত এই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করতে পারে।