নিজের সরকারের বিরুদ্ধেই তোপ জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়কের
অভিজিৎ মন্ডল (ফারাক্কা): স্বাস্থ্য থেকে প্রশাসন, নিজের দলের সরকারের বিরুদ্ধেই একের পর এক বিস্ফোরক পোস্টে সমাজমাধ্যম কাঁপাচ্ছেন জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায়। গত দুদিনের এই পোস্ট ভাইরাল হতেই অস্বস্তিতে জেলা বিজেপি।
প্রশাসন নিয়ে তার অভিযোগ, তৃণমূলের আশ্রয়ে থেকে অন্ধকার জগতের লোকেদের সঙ্গে এখনও যথেষ্ট দোস্তি আর ভাগবাটোয়ারায় হাত পাকানো কিছু অফিসার যেভাবে রোজ নিজের সরকারি কর্মক্ষেত্রে পোজ দিচ্ছেন, টালিগঞ্জের মতো ফ্লোর শুট করছেন, বিতর্কিত সমাজবিরোধীদের সঙ্গে ছবি ছাড়ছেন, তাতে মনে হচ্ছে আমরা এখনও বিরোধী দল। তিনি আরও লিখেছেন, গোমাতা চালান যাচ্ছে, বালি ও কয়লার দু নম্বরী চালানে প্রচুর লরি আসছে। সেকেন্দ্রা গ্রামে পুলিশ ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও কয়েকটা গুন্ডা যা খুশি করছে কোন অফিসার বা নেতার স্পর্ধায়? মুখ্যমন্ত্রীকে সব জানাবো। নবাগত কেউ কেউ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে বিধায়কের থেকে অন্য কাউকে ওজনদার বানাতে ব্যস্ত। পঞ্চায়েতের অদল বদল নিয়ে প্রশাসন নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আমাকে অন্ধকারে রেখে। আমি যাদের নুন খেয়েছি, আমার সরকার যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার এক পা বাইরে যাব না। আর কখনও ভোটেও দাঁড়াবো না – সমাজমাধ্যমে কড়া বার্তা বিধায়কের। স্বাস্থ্য নিয়েও তোপ দেগেছেন তিনি। আশঙ্কাজনক রোগীদের কলকাতা নিয়ে যেতেই পরিবারের বুকের ভেতর ভূমিকম্প হচ্ছে। ক্যারামের গুটির মতো এ হাসপাতাল সে হাসপাতালে দৌড়ে বেড়াতেই রোগী চির বিশ্রামে। রোজ ঘটছে। দুজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পিএ আর ফোন ধরেন না।
এ প্রসঙ্গে বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, গোপন কথা ওপেন করতে ভয় পাওয়া কারুরই উচিত নয়।
বিধায়কের এই মন্তব্যে সত্যতা আছে স্বীকার করেও বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুজিত দাস বলেন, বিজেপির স্বাস্থ্য সহায়ক শাখা নেই বললেই চলে। আগের সরকারের অবস্থা থেকে তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। তবে প্রকাশ্যে না বলে দলের মধ্যে আলোচনা করলে পারতেন। দলের ওবিসি মোর্চার রাজ্য সভাপতি ধনঞ্জয় ঘোষ বলেন, বহুবার বলেছি সমাজ মাধ্যমে এসব না লিখতে।প্রবীণ মানুষ, আবার বলব।
উল্লেখ্য, ৭৭ বছরের চিত্তবাবু কংগ্রেসের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতা, পরে আরএসএস-এ যোগ দেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কার্তিক মহারাজের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিনি। এবার বিধানসভায় জঙ্গিপুর থেকে তৃণমূলের জাকির হোসেনকে হারিয়ে জয়ী হন।