প্রার্থী বাছাইয়ে জয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা এসওপি তৈরি করা হয়েছে। রাজ্য নেতৃত্ব ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর সেই পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।
দলের কর্মী নন, সমাজের কৃতীরাও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন, প্রার্থী নির্বাচনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতেই ড্রপবক্স চালুর সিদ্ধান্ত। বিজেপির কর্মীদের পাশাপাশি চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সমাজসেবী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত যোগ্য ব্যক্তিরা তাদের আগ্রহ ও প্রস্তাব জানাতে পারবেন। সুকান্তর বক্তব্য, কলকাতার উন্নয়নে যারা অবদান রাখতে চান, তাদের শুধু দর্শক হয়ে থাকলে চলবে না। রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও নতুন চিন্তাভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় বিজেপি।
যুবসমাজকেও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্টার্টআপ, দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, গণপরিবহণ এবং ডিজিটাল নাগরিক পরিষেবার মতো বিষয় নিয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পড়ুয়া ও তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কলকাতার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
কলকাতা পুরসভার প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন সুকান্ত। তার দাবি, কোনও প্রোমোটার বা ডেভেলপার গোষ্ঠীর প্রভাব যেন নাগরিক স্বার্থের উপরে স্থান না পায়, তা নিশ্চিত করতে চায় বিজেপি। রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুরনিগমের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে জল সরবরাহ, নিকাশি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং সুপরিকল্পিত নগরায়ণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ঐতিহ্যবাহী এলাকার স্বকীয়তা বজায় রেখেই আধুনিক কলকাতা গড়ার কথা বলেছেন তিনি।
কলকাতায় বিজেপির মেয়র পদপ্রার্থী কে হবেন, সেই প্রশ্নে সুকান্তবাবু জানান, এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের সাংগঠনিক পদ্ধতি অনুযায়ী নির্বাচনের পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে সুকান্তবাবু দাবি করেন, কলকাতার পুরনো ওয়ার্ডের মানচিত্র অনুযায়ী আগের বিধানসভা নির্বাচনে ১৪৪টি আসনের মধ্যে ১০৪টিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি। যদিও এই দাবি নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে কোনও বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়নি।
মিছিল ও প্রতিবাদের অধিকার প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, গণতন্ত্রে প্রত্যেকের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে, তবে আইন মেনে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি করা উচিত। বিরোধী দলে থাকার সময় পুলিশের বাধার মুখে পড়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরে তিনি তৃণমূলের গণতন্ত্র রক্ষার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের মন্ত্রী তাপস রায়, বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি এবং রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়।
সব মিলিয়ে, কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠন বিস্তারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজকে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার বার্তা দিল বিজেপি। সুকান্তবাবুর আহ্বান, দূর থেকে নীরব দর্শক হয়ে নয়, পিচে নেমে খেলুন। কলকাতার পুনর্নির্মাণে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ডাক দিয়েই পুরভোটের প্রস্তুতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাইছে গেরুয়া শিবির বলে মত বিশেষজ্ঞ শিবিরের।