নিজস্ব সংবাদদাতা: মোদী- শাহদের সঙ্গে প্রথম সারিতে কাকলি এনডিএ’র বৈঠকে অংশ নিতে দেখা গেল তৃণমূলের বিদ্রোহীদের সাংসদদের।মঙ্গলবার এনডিএ’র বৈঠক ডাকা হয়েছিল সংসদে।
যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘মঙ্গল মিলন’ কর্মসূচি। সেই কর্মসূচিতেই এনডিএ-র শরিক হল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া। এদিন এনডিএ-র বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে একই সারিতে বসেছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দ্বিতীয় সারিতে দেখা যাব বাকি সাংসদদের। সাংসদদের নাম ধরে ধরে পরিচয়পর্ব সারা হয়। তারপর সকলের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরেই জল্পনা জোরালো হয়, তবে কি এবার সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন কাকলি, শতাব্দী, সুদীপদের মতো সাংসদরাও? মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয় এনডিএ’র বৈঠক। কাকলি-শতাব্দীদের পাশাপাশি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, শর্মিলা সরকারদের বৈঠকে যোগ দিতে দেখা যায়।বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও এনসিপিআই পার্টিকে আলাদা সংসদীয় দলের অনুমোদন দেননি অধ্যক্ষ। এই ২০ জন সাংসদকে ডিসকোয়ালিফাই করার দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের তরফে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে সোমবার সন্ধেয় কলকাতায় ফিরে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একপ্রস্ত বৈঠক করেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে বাংলা থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে দল বদল করা ২০ জন সাংসদের বিজেপিতে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও চর্চা চলছে। কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ নেতা সৌগত রায়ের বক্তব্য, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েই এই সাংসদরা তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন। এখন এনসিপিআই হয়েছেন। দল ছেড়ে দলের সঙ্গে তো বেইমানি করেইছেন, যারা বিজেপির বিরোধিতা করে জিতেছিলেন, তারাই বিজেপিতে শামিল হচ্ছেন।যদিও রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কাজকে যদি কেউ সমর্থন করেন, সেটা তো খুবই ভালো কথা। দেশের মানুষই তো তা হলে সুবিধা পাবেন। বাকি পার্টিগুলিও সমর্থন করুক। এনডিএ’র এই বৈঠক নিয়ে সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তৃণমূল থেকে যারা এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন, তারা একেবারেই একটা ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য। তারা কী করবেন, কবে কোন মিটিংয়ে যোগ দেবেন, একেবারেই তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।