অভিষেকের পার্টি অফিস ভাঙায় ৬ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিতাদেশ
নিজস্ব সংবাদদাতা: আমতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে নয়া মোড়।
মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) সুরজিৎ মিত্র আদালতে দাবি করেন, পাঁচতলা ওই ভবনের যে অংশটি ভাঙা হয়েছে, তা আবেদনকারী সংস্থার মালিকানাধীন নয়। ফলে মামলাকারীর প্রাপ্য অংশ অবিকৃতই রয়েছে। যদিও দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আগামী ৬ অগাস্ট পর্যন্ত ওই কার্যালয় ভাঙার কাজে স্থগিতাদেশ বজায় রাখারই নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।এদিন শুনানির সময় রাজ্যের এজি জানান, আবেদনকারী সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ মূলত ৫০৯ এবং ৫১২ দাগ নম্বরের জমির মালিক। কিন্তু অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে প্রশাসন যে অংশটি ভেঙেছে, তা ৫০৭ দাগ নম্বরের অন্তর্গত। অর্থাৎ, মামলাকারীর জমিতে কোনো আঘাত আনা হয়নি। এই যুক্তিতে হাইকোর্টকে নির্দেশ প্রত্যাহার করার আবেদন জানান তিনি। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে পঞ্চায়েত আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ন্যূনতম কোনো সময় বা নোটিস না দিয়েই ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থাকে এড়িয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে ভবনটি। পঞ্চায়েতের নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন কোনোভাবেই মেনে চলা হয়নি। উভয় পক্ষের জোরালো যুক্তি শোনার পর বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আগামী ৬ অগাস্ট পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার সময়সীমা বাড়ান। সঙ্গে আদালতের তরফ থেকে এও জানানো হয়, ওই দিন দুপুর দুটোয় ফের মামলার শুনানি হবে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি জেলা পরিষদে অভিযোগ জানান, কোনো অনুমোদিত প্ল্যান বা নকশা ছাড়াই বেআইনিভাবে এই বিশাল পাঁচতলা ভবনটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, আমতলায় একটি পুরনো বেকারির জায়গা গায়ের জোরে দখল করে কার্যালয়টি গড়ে তোলা হয়েছিল। এদিকে রাজ্যে সরকারের নির্দেশে পুনরায় তদন্ত শুরু হলে, গত ৩০ জুন জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর ডিরেক্টর তথা অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠানো হয়। ১৫ জুলাই সমস্ত কাগজপত্র সহ উভয় পক্ষকে ডেকে পাঠায় প্রশাসন। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে কেউ হাজিরা দেননি। আর এই হাজিরা এড়ানোর পর জেলা পরিষদ ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয় এবং গত ১৮ জুলাই সকাল থেকে বুলডোজার নামিয়ে কাজ শুরু করে। প্রশাসনের এই আচরণের বিরুদ্ধে বিচার পেতে সরাসরি হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়েন অভিষেক।