মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে সুমিতের আইনজীবীর আর্জি খারিজ করে স্পষ্ট ভাষায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানিয়ে দেন, তদন্ত চলছে। এক্ষুনি কোনও রক্ষাকবচ চাওয়া যাবে না। ফলে এই মামলায় অভিষেকের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগীর মাথার উপর যে গ্রেফতারের খাঁড়া ঝুলছিল, তা আরও সুযোগ পেয়ে গেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। শালবনিতে বড়সড় জমি জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পরই আগাম জামিন ও কোনও কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার আর্জি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুমিত। তবে এদিন আদালতে সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেন রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল (এএজি) রাজদীপ মজুমদার। সরকারের স্পষ্ট দাবি, গ্রামের নিরীহ মানুষদের চক্রান্ত করে এবং ভয় দেখিয়ে জমি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তারপর সেই জমি গ্রাস করতে তৈরি হয় জাল নথিপত্র।এদিন এএজি আদালতে সাফ জানান, ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক (বিএলআরও) স্পষ্ট করেছেন যে, হস্তান্তরিত ওই জমিগুলি আদতে সরকারি। কিন্তু সেই সম্পত্তি হাতাতে ‘বিষ্ণু রায়’, ‘পল্টু রায়’ কিংবা ‘কমলা রায়’-এর মতো অস্তিত্বহীন ও ভুয়ো চরিত্রদের নামে নথি চালানো হয়। শুধু তা-ই নয়, মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার কাছ থেকে বিএলআরও-র নকল রাবার স্ট্যাম্প সমেত একগুচ্ছ সন্দেহজনক কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। জালিয়াতি ও বেআইনি টাকা আদান-প্রদানের পুরো সুবিধাটাই সুমিত রায়ের কাছে পৌঁছেছে এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেন হয়েছে নগদে। যদিও সুমিতের পক্ষের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেন, পুলিশ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। জমির মালিকেরা সকলেই প্রাইভেট পার্টি এবং সরকারি নথিতে তা চিহ্নিতও করা আছে। এমনকি ক্যামাক স্ট্রিটে টাকা পৌঁছে দেওয়ার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার একটিও প্রমাণ পুলিশের হাতে নেই বলে সুমিতের আইনজীবী সুর চড়ান। তবে দু’পক্ষের আইনি যুদ্ধ শুনলেও সুমিতকে কোনও মধ্যবর্তী সুরক্ষা দিতে নারাজ আদালত। ফলে সুমিতের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যেতে পুলিশের আর কোনও আইনি বাধা রইল না।