বিশ্বজিৎ সাহা(মালদহ): মালদার মালতিপুরের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সীর বিরুদ্ধে জমি দখলকে কেন্দ্র করে পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
একটি অভিযোগ দেবোত্তর সম্পত্তি দখলকে ঘিরে, অন্যটি সরকারি জমি দখলের অভিযোগ। দুই ক্ষেত্রেই রতুয়া থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রতুয়া থানার রুকুন্দিপুরের বাসিন্দা শকুন্তলা ঘোষ অভিযোগ করেছেন,রতুয়া বিডিও অফিসের সামনে তাদের প্রায় ৯০ শতক দেবোত্তর সম্পত্তির মধ্যে ৬০ শতক জমি বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী-সহ মোট আটজন দখল করেছেন। তার ছেলে জানান, রুকুন্দিপুরে তাদের একটি মন্দির রয়েছে এবং ওই মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি ২০১৫ সাল থেকেই দখল হয়ে রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে তাদের দাবি। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সে সময় রাজ্যে তৃণমূল সরকার থাকায় এবং আব্দুর রহিম বক্সী জেলা তৃণমূল সভাপতি ও বিধায়ক হওয়ায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর ফের থানার দ্বারস্থ হয়ে তারা জমি ফেরত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আরএসপির মালদা জেলা সম্পাদক সর্বানন্দ পাণ্ডে অভিযোগ করেছেন, সেচ দপ্তরের জমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে একটি এনজিও এবং স্কুল পরিচালনা করছেন বিধায়ক। তার দাবি, প্রয়াত গনি খান চৌধুরীর আমলে ওই স্থানে সেচ দপ্তরের একটি ইনস্পেকশন বাংলো ছিল। পরে এনজিওর নামে জমি লিজ নেওয়া হলেও তা আর নবীকরণ করা হয়নি। এরপর অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করে নির্মাণকাজ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংহানিয়াও বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মালতিপুরের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী। জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, দুটি অভিযোগই পুলিশের কাছে এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।