ওই শিবিরে চরম দুর্নীতি, ভুয়ো চিকিৎসা ও রোগীদের অঙ্গহানির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে এবার বিধানসভায় সরাসরি সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধানসভায় এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভাইপো ও তার শাগরেদদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। এই চিটিংবাজ ভাইপোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা বিধানসভায় সেবাশ্রয় শিবিরের দুর্নীতি নিয়ে সরকার ও স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি ও তথ্য পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার অধিবেশনে বেশ কিছু ছবি সামনে এনে তিনি অভিযোগ করেন, এই সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে বহু মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। একটি বাচ্চার ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, এই চিটিংবাজটা কীভাবে ক্ষতি করেছে দেখুন! বাচ্চাটির হাত গিয়েছে, আরেকটি বাচ্চাকে বিকলাঙ্গ করেছে। এরপর এক মহিলার ছবি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই দিদির পা বাদ গিয়েছে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই শিবিরে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিন বেআইনিভাবে বাইরে নিয়ে গিয়ে এই শিবিরে ব্যবহার করা হতো। এমনকী মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রী ও সরকারি চিকিৎসকদের জোর করে ওই শিবিরে নিয়ে যাওয়া হতো বলে অভিযোগ। রোগীদের মেয়াদ-উত্তীর্ণ ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি তেজস্ক্রিয় পদার্থের অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিকিৎসক রাজীব বিশ্বাসের একটি বিস্ফোরক চিঠিও এদিন বিধানসভায় পাঠ করে শোনানো হয়।
ইতিমধ্যেই বিষ্ণুপুর থানাসহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন থানায় সেবাশ্রয় নিয়ে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে রাজ্য পুলিশের বিশেষ টিম। রাজ্য পুলিশের সিআইডি, এসটিএফ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ এবং অভিজ্ঞ মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল বর্তমানে এই কেলেঙ্কারির তদন্ত ও অভিযান চালাচ্ছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে শিবিরের ব্যবহৃত সমস্ত সরঞ্জাম। এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। এ তো সরাসরি খুনের মামলা! ক্ষতিগ্রস্থদের প্রতিটি অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় এনে দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করবে এই সরকার।
উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সংসদীয় এলাকায় প্রথম এই সেবাশ্রয় শিবিরের সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীতে নন্দীগ্রামেও এর সম্প্রসারণ ঘটে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার আইনি অনুমোদন না থাকা, স্বাস্থ্যকর্মীদের ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং মেয়াদ-উত্তীর্ণ ওষুধ খাইয়ে রোগীদের মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি করার অভিযোগে এই প্রকল্পটি এখন চরম বিতর্কের মুখে।