বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে শুধুমাত্র নির্দেশ বা হুকুম দিয়ে চালনা করা যাবে না জানিয়ে, আলোচনা, যুক্তি ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে ঐকমত্য গড়ে তোলার পরামর্শ দিলেন তিনি।
শুক্রবার বিশ্ব মঙ্গল্য সভা'র এক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দিতে গিয়ে ভাগবত বলেন, ‘এখনকার প্রজন্মকে শুধু নির্দেশ দিয়ে কিছু হবে না। তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে হবে, আলোচনা করতে হবে। উপর থেকে কোনও সিদ্ধান্ত বা আদেশ চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোই আসল পথ। বক্তৃতায় সমাজ ও সময়ের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে সঙ্ঘ প্রধান বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন বড়দের নির্দেশ চোখ বন্ধ করে মেনে নেওয়ার যুগ ছিল। কিন্তু আজকের সময় পাল্টে গেছে। এখনকার নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করতে শেখে, যুক্তি খোঁজে। তাই তাদের আবেগ ও প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়ে যুক্তির মাধ্যমে বোঝাতে হবে। তাদের প্রচুর সময় দিতে হবে, ভালোবাসা দিতে হবে।এরই পাশাপাশি পরিবারের মধ্যেও আলোচনার পরিসর কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
যদিও নিজের বক্তব্যে কোথাও যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র সংগঠন বা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবির কথা সরাসরি উচ্চারণ করেননি ভাগবত। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্র সরকার ও দিল্লি পুলিশের 'কড়া মনোভাব'-এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে সঙ্ঘ প্রধানের এই ‘কোমল ও সংলাপাভিমুখী’ বার্তা আদতে সরকারের নীতিকেই এক প্রকার পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভাগবতের এই বক্তব্য সামনে আসতেই তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘মোহন ভাগবতজি, যন্তর মন্তরে ছাত্রছাত্রীদের ওপর যা চলল, তা নিয়ে গত এক মাস ধরে আপনার এই নীরবতাই আপনার আজকের বক্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ।’ অন্যদিকে, আরএসএস -এর প্রবীণ নেতা ইন্দ্রেশ কুমার আবার সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর চড়িয়ে দাবি করেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী শক্তি গুলি সিজেপি আন্দোলনকে পিছন থেকে উস্কানি দিচ্ছে। তবে এই দাবির সপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ তিনি পেশ করতে পারেননি। অন্য দিকে, কেন্দ্র সরকার প্রকাশ্যে জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে নতুন আইনি বিল আনা ও পরীক্ষা সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা চলছে।