এক ঝলক
চিটিংবাজ ভাইপোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না ঃ শুভেন্দু অধিকারী ককরোচ আন্দোলন ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ তৃনমূলের সেবাশ্রয় ক্যাম্প থেকে বকেয়া পাওনা ৩০ লাখ, রিসর্ট মালিকের অভিযোগ নতুন প্রজন্মকে নিয়ে চালনায় কেন্দ্রকে বার্তা আরএসএস প্রধানের মাতৃহারা হলেন অস্কারজয়ী অভিনেতা বেন অ্যাফ্লেক

তৃনমূলের সেবাশ্রয় ক্যাম্প থেকে বকেয়া পাওনা ৩০ লাখ, রিসর্ট মালিকের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রান্তিক মানুষের দুয়ারে নিখরচায় চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বছর দু’য়েক আগে মহা সমারোহে চালু হয়েছিল ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প।
Ganamadhyam
26 July, 2026



কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সেই উদ্যোগ ঘিরে একের পর এক বিতর্কের কালো মেঘ ঘনাক্রান্ত হতে শুরু করেছে। ডায়মন্ড হারবারের তৎকালীন সাংসদের এই স্বপ্নের প্রকল্প নিয়ে আগেই চিকিৎসার মান সংক্রান্ত নানাবিধ প্রশ্ন উঠেছিল। এবার নতুন করে যুক্ত হলো ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ। ৩০ লাখ টাকা বকেয়া মেটানো এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত এফআইআর দায়ের করেন এক রিসর্ট মালিক। আর এই এফআইআর দায়ের হতেই অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর বিধানসভা এলাকায় যখন ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল, তখন ক্যাম্পের কর্মী ও আধিকারিকদের থাকার জন্য স্থানীয় ‘ইকো ক্রিক’ নামের একটি বিলাসবহুল রিসর্ট ভাড়া নেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, তৎকালীন এক প্রভাবশালী বিধায়ক তথা মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই এই রিসর্টটি চুক্তিভিত্তিক নেওয়া হয়েছিল। মূলত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের ক্যামাক স্ট্রিট দফতরের প্রতিনিধিরা ও পিএ সুমিত রায় সহ প্রায় ১৫০ জন কর্মী সেখানে মাসের পর মাস ফুডিং ও লজিং-এর সুবিধা ভোগ করেন।
অভিযোগ, ওই ক্যাম্পের যাবতীয় পরিষেবার মোট বিল দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। কিন্তু বারবার দরবার করা সত্ত্বেও সেই বকেয়া মেটানো হয়নি। উপরন্তু রিসর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ‘এ রাজ্যে ব্যবসা করতে গেলে এই ধরনের খরচ সহ্য করতেই হবে, কোনও টাকা মিলবে না।’
তবে এই ঘটনা সামনে আসার পর খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এতদিন মুখ খোলেননি কেন? সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রিসর্ট মালিক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, তখন রাজ্যে তৃণমূলের সরকার ছিল। শাসকদলের চোখরাঙানি ও ক্ষমতার ভয়ে পুলিশের কাছে যাওয়ার সাহস পাইনি। এখন রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে, তাই সুবিচারের আশায় বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানালাম।
এদিকে এই ঘটনা সামনে আসতেই সরগরম হয়ে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতি। শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সেবাশ্রয় সংক্রান্ত নানাবিধ অনিয়ম নিয়ে কড়া বিবৃতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, সেবাশ্রয় প্রকল্পের নামে বড় মাপের আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘যারা এই সব অপকর্মের শিকার হয়েছেন, রাজ্য সরকার তাদের পাশে আছে। ক্ষমতার গরম দেখিয়ে যাঁরা বকেয়া মারার চেষ্টা করেছেন কিংবা বেআইনি সুবিধা নিয়েছেন, তদন্ত করে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে এই অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে  বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ।
ই-পেপার