জোড়াফুল শিবিরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ‘চেক সাইনিং অথরিটি’ তথা দলের বর্ষীয়ান নেতা শুভাশিস চক্রবর্তীকে তলব করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি সূত্রের খবর, তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই ‘ফ্রিজ’ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টেরই একটিতে আর্থিক লেনদেনের স্বাক্ষরকারী বা ‘চেক সাইনিং অথরিটি’ হিসেবে নাম রয়েছে শুভাশিসের। দলীয় সূত্রের খবর, একুশে জুলাইয়ের মেগা ইভেন্টের ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে হাজিরা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে কিছুটা সময় চেয়ে পাঠিয়েছিলেন শুভাশিস। তবে তদন্তকারীরা তাকে নতুন করে আর কোনও সময় দিতে রাজি হননি বলেই ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। গোয়েন্দাদের নজরে মূলত তিনটি দলীয় অ্যাকাউন্ট। ইডি সূত্রে ইঙ্গিত, শুধু শুভাশিস একাই নন, ওই অ্যাকাউন্টগুলির দায়িত্বে থাকা বাকি চেক সাইনিং অথরিটি’দেরও একে একে তলব করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য— ওই ৩টি অ্যাকাউন্টে ঠিক কোথা থেকে টাকা ঢুকেছিল, কীসের ভিত্তিতে টাকা তোলা হয়েছে এবং তোলা অর্থ কোন কোন খাতে খরচ করা হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব মেলানো। তদন্তের এই গতিপ্রকৃতি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। কারণ, ইডি সূত্রে দাবি, ফ্রিজ হওয়া ওই সব অ্যাকাউন্টের ‘চেক সাইনিং অথরিটি’ হিসেবে নাম রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের রাজ্যসভার সংসদীয় দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনেরও। ফলে তদন্তের স্বার্থে আগামী দিনে এই হাইপ্রোফাইল দুই শীর্ষনেতাকেও ইডি-র মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে চর্চা শুরু হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভাশিস চক্রবর্তী বরাবরই প্রচারের আলোর বাইরে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অনুগত বিশ্বস্ত সঙ্গী। আশির দশকে মমতা যখন যাদবপুরের সাংসদ, সেই সময় কুঁদঘাট-বেহালা এলাকা থেকে উঠে আসা শোভন চট্টোপাধ্যায়দের সমসাময়িক তরুণ মুখ ছিলেন তিনি। বক্তা হিসেবে 'ক্যারিশম্যাটিক' না হলেও দক্ষ সংগঠক হিসেবে দলে শুভাশিসের সুনাম বরাবরের। সব বাধা-বিপত্তিতেও যিনি কখনও দলবদল করেননি। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকা সেই শুভাশিসকে ইডি-র সমন ও অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের নির্দেশ শাসকদলের ওপর চাপ আরও বাড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে।