এক ঝলক
শনিবারই ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশ, আমফান দুর্নীতিতে এফআইআর হবার সম্ভাবনা তৃণমূলের পার্টি ফান্ড মামলায় শুভাশিসকে তলব ইডির ককরোচ কান্ডে বিরক্তি প্রকাশ বিচারপতির, জবাব তলব দিল্লি হাই কোর্টের পশ্চিমবঙ্গ স্টেট তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপ ও জিসিএস পিস কাপ ২০২৬ নিরাপদ সাঁতার ও জল-নিরাপত্তা প্রসারে যৌথ উদ্যোগ নিল সিনি ও মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাব

ককরোচ কান্ডে বিরক্তি প্রকাশ বিচারপতির, জবাব তলব দিল্লি হাই কোর্টের

নতুন দিল্লি: নিট ইস্যুতে সোমবার সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি।
Ganamadhyam
23 July, 2026

সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় রাজধানি দিল্লিতে। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপরে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে। সংসদ ভবন অভিযানে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ নিয়ে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চাইল দিল্লি হাই কোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে এ বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। এ ছাড়া, ঘটনার দিনের সংশ্লিষ্ট সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, ভিডিয়োগ্রাফি এবং অন্যান্য রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশও পুলিশকে দিয়েছে আদালত।শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলেও অভিযোগ। দিল্লি হাই কোর্টে এ বিষয়ে দু’টি জনস্বার্থ মামলা হয়। তার ভিত্তিতেই পুলিশ এবং কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছে দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ফের এই মামলার শুনানি হবে। তার আগে হলফনামা দিয়ে বক্তব্য জানাতে হবে পুলিশ এবং কেন্দ্রকে। পুলিশি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বুধবার সুপ্রিম কোর্টেরও  দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক আইনজীবী। মামলায় জরুরি শুনানির আর্জিও জানান তিনি। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া দিল না  সুপ্রিম কোর্ট। মামলাকারীদের আইনজীবী বিষয়টি নিয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। নিজেদের সময়ও নষ্ট করবেন না। মামলাকারীর তার আবেদনে জানিয়েছিলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালীন দিল্লি পুলিশ ছাত্র-যুবদের উপরে লাঠিচার্জ করেছে। তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। আদালতের রায় অমান্য করেছে। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট যেন স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে। দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, গোটা ঘটনার তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন ওই আইনজীবী। কিন্তু তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।  প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ওই আইনজীবী তার আবেদনের স্বপক্ষে কিছু ভিডিয়ো দেখাতে চান। তিনি দাবি করেন, এই ভিডিয়োগুলি ‘ককরোচ’ দলের সংসদ অভিযানের সময়কার। কী ভাবে পুলিশ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি আটকাতে লাঠিচার্জ করেছে, তা রয়েছে ওই ভিডিয়োগুলিতে। যদিও প্রধান বিচারপতি সেই সব ভিডিয়ো দেখতে চাননি। তার মন্তব্য, ভিডিয়োতে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই। আমাদের দেখার সময়ও নেই। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলাকারী আইনজীবী জানান, নিটে প্রশ্নফাঁস,পরীক্ষা পরিচালনা এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির  সংস্কার-সহ একগুচ্ছ বিষয়কে সামনে রেখে প্রতিবাদ করছিলেন পড়ুয়ারা। সেই সময় প্রধান বিচারপতি ওই আইনজীবীকে থামিয়ে দেন। তাকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে বসে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তখনই ওই আইনজীবী পুলিশের অতিসক্রিয়তা’র অভিযোগ তুলে ভিডিয়োগুলি দেখাতে যান। তবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষাতেই ভিডিয়োগুলি দেখবেন না-বলে জানান। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দিল্লি হাই কোর্টেও এই সংক্রান্ত এই আবেদনের জরুরি ভিত্তিতে শুনানির অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু উচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেয়। দিল্লি হাই কোর্ট জানিয়ে দেয়, আদালতকে এর মধ্যে জড়াবেন না। প্রসঙ্গত, দিল্লি পুলিশের তরফে অনুমতি না দেওয়া হলেও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সকালে সংসদ অভিযানে নামে ককরোচ জনতা পার্টি। ১৬৩ ধারা উপেক্ষা করে ‘আরশোলা’দের এই অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।  সিজেপি এবং বিরোধী নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। প্রতিবাদে মঙ্গলবার পথে নামেন রাহুল গান্ধি-অখিলেশ যাদবরা। মঙ্গলবার মোদীর বাসভবনের কাছে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। রাহুলদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, ছাড়া হয় রাতে। রাতেই আবার পুলিশকে লক্ষ্য করে যন্তর মন্তরে ইঁট, পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে সরকারপক্ষের তরফে। এমন কি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে পুলিশের ওপর ইঁট দিয়ে হামলার এবং আহত বহু পুলিশের ছবি। যারা হসপিটালে মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েই ঐ সময়ে তাদের কিভাবে মারা হয়েছে তার বর্ণনা দিচ্ছিলেন।
ই-পেপার