বিশ্বজিৎ সাহা (মালদহ ): গঙ্গার ভয়াবহ ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি ও চাষের জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মানিকচক ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। মঙ্গলবার ভাঙন কবলিত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তার সঙ্গে ছিলেন জেলা সেচ দপ্তরের আধিকারিকরাও।বর্তমানে মানিকচকের ভূতনীর কেশপুর, কালুটনটোলা, বসন্তটোলা এবং রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের পশ্চিম রতনপুর এলাকায় গঙ্গার ভাঙন ব্যাপক আকার নিয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতবাড়ি ও কৃষিজমি গঙ্গার গ্রাসে চলে গিয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন বহু পরিবার। বিশেষ করে পশ্চিম রতনপুর এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি নদীর ভাঙন শুরু হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল ভূতনীর বিভিন্ন ভাঙন কবলিত এলাকা এবং পশ্চিম রতনপুর পরিদর্শন করেন। সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নদীর পাড়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং কোথায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি, তা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনের সময় বিধায়ককে ঘিরে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি ও জমি হারানোর পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্গত পরিবারগুলির জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে টিউবওয়েল বসানো এবং শৌচালয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।স্থানীয়দের সমস্ত অভিযোগ ও দাবিদাওয়া মন দিয়ে শোনেন বিধায়ক। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গৌড়চন্দ্র মণ্ডল জানান, ভূতনীকে এবছর কোনওভাবেই বন্যার জলে ডুবতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, শুকনো মরশুমে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় গঙ্গার ভাঙন রোধে স্থায়ী কাজ শুরু করা হবে। সেই কাজ বাস্তবায়িত হলে আগামী বছর থেকে ভাঙনের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। তবে প্রশাসনিক আশ্বাসের পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা। কারণ প্রতিদিন নদীর পাড় ভাঙতে থাকায় তাদের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে আরও বহু পরিবারকে বসতভিটে ও জমি হারাতে হতে পারে।