এক ঝলক
ছাত্রবিক্ষোভের আড়ালে থাকা দুষ্কৃতীদের কোনো ছাড় নয় ঃ আদালত দুর্নীতি, তোলাবাজি নিয়ে সতর্ক বিজেপি,কড়া বার্তায় অগ্নিমিত্রাও কাকলির দাবি বিজেপি-গড়ে প্রশান্ত কিশোরের দলের জয় হাওড়া থেকে এসটিএফের জালে হামিমের সহযোগী আদিত্য

৩০ বছর আগে আজকের দিনেই অলিম্পিকে ইতিহাস রচনা করেছিলেন লিয়েন্ডার পেজ

সজল দাশগুপ্ত : ভারতীয় টেনিসের অন্যতম সেরা নক্ষত্র লিয়েন্ডার পেজ। তার হাত ধরে ভারতীয় টেনিসে নবজাগরণ হয়েছিল।
Ganamadhyam
04 August, 2026



বহু ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সাক্ষী লিয়েন্ডার। ভারতের টেনিসকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একার হাতেই। ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলির একটি রচনা করেছিলেন টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ। 
৩০ বছর আগে আজকের দিনে অলিম্পিকের পুরুষদের  সিঙ্গেল বিভাগে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে ব্রাজিলের ফার্নান্দো মেলিজেনিকে ৩-৬, ৬-২, ৬-৪ সেটে হারিয়ে তিনি অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেছিলেন।
তার হাত ধরে ভারতীয় অলিম্পিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।
ম্যাচের প্রথম সেটে ৩-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা, লড়াকু মনোভাব এবং অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন লিয়েন্ডার। দ্বিতীয় সেটে ৬-২ ব্যবধানে জিতে সমতা ফেরানোর পর নির্ণায়ক তৃতীয় সেটেও দারুণ টেনিস উপহার দিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে ম্যাচ নিজের করে নেন তিনি। চাপের মুহূর্তে তার অসাধারণ প্রত্যাবর্তন আজও ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
লিয়েন্ডার পেজের এই ঐতিহাসিক জয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৫২ সালের হেলসিঙ্কি অলিম্পিকে খাশাবা জাধবের ব্রোঞ্জ জয়ের পর দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে অলিম্পিকে ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক পাইনি ভারত। পাশাপাশি  ১৯৮০ সালে মস্কো অলিম্পিকে ভারতীয় হকি দলের সোনা জেতার পর ১৬ বছর ধরে অলিম্পিকে ভারতের কোনো পদক ছিল না। অবশেষে সেই অপেক্ষার সমাধান ঘটে লিয়েন্ডারের হাত ধরে। এই ব্রোঞ্জ পদক শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বিশ্ব ক্রীড়া ক্ষেত্রে ভারতের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার মুহূর্ত। তিনি এমন এক সময় পদক পেয়েছিলেন, যখন অলিম্পিকে পদক পাওয়া স্বপ্নের মত দেখাতো। তার এই অর্জন ভারতীয় টেনিসকে বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচিতি দেয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণা।
লিয়েন্ডার পেজের  ব্রোঞ্জ পদক আজও ভারতীয় অলিম্পিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা কীর্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশের কোটি কোটি ক্রীড়াপ্রেমীর কাছে এটি শুধু একটি পদক নয়, বরং সাহস, অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং কখনও হার না মানার মানসিকতার প্রতীক। ভারতীয় টেনিসের এই কিংবদন্তির ঐতিহাসিক সাফল্য চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে।
ই-পেপার