নতুন দিল্লি: নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন শেষ হলেও বিতর্ক থেমে নেই। আন্দোলন মিটতে না-মিটতেই এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষকে ধরার চেষ্টায় মঙ্গলবার দিল্লিতে সিপিএমের সদর দফতরে পৌঁছে গিয়েছিল পুলিশ।
সিপিএমের দাবি, যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কারণেই পুরনো মামলায় এসএফআইয়ের যুগ্ম সম্পাদক ঐশীকে গ্রেফতারের চেষ্টা হচ্ছে। বুধবার সংসদেও সেই অভিযোগে সরব হন জন ব্রিটাস। সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে রাজ্যসভায় জে পি নাড্ডা দাবি করেন, ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত থাকলে এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। সাতের দশকে জরুরি পরিস্থিতিতে তিনি নিজেও এ ভাবে গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তার বক্তব্য, কোনও ছাত্রনেতা আন্দোলন করতে নামলে তাকে পুলিশি পদক্ষেপের জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। জেপি নাড্ডা বলেন, জরুরি অবস্থার সময়ে আমাকেও বহু বার ক্লাসরুম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। দলীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের বিষয়টি রাজ্যসভায় তুলে ধরেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস। তাকে সমর্থন জানান রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, একটি সর্বভারতীয় দলের অফিসে ঢুকে এমনটা করা লজ্জাজনক। বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে জবাব দেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডাও। বিরোধীদের আক্রমণের জবাবে তার ব্যাখ্যা, আন্দোলন করতে গেলে পুলিশি পদক্ষেপ সহ্য করার জন্যও তৈরি থাকতে হয়। এটি খুবই স্বাভাবিক বিষয় বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। নাড্ডা বলেন, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিতে এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। এটা আমাদের বুঝতে হবে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পদক্ষেপ করে। এর পরই নিজের ছাত্রজীবনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। জানান, ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে অতীতে তিনিও গ্রেফতার হয়েছেন। নড্ডা বলেন, আমি নিজেও ছাত্র রাজনীতি করেছি। আমাকেও বহু বার গ্রেফতার করা হয়েছে। জরুরি অবস্থার সময়ে কংগ্রেস আমলে আমাকে তো ক্লাসরুম থেকে বহু বার গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্রিটাসের উদ্দেশে নাড্ডা বলেন, আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা আইনশৃঙ্খলা নিজেদের হাতে তুলে নিলে পুলিশকেও সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে হয়। এ ধরনের ঘটনাকে রাজনীতির একটি স্বাভাবিক অঙ্গ হিসেবেই দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সভাপতি ঐশীকে ২০২১ সালে একটি মামলায় ধরতে গিয়েছিল পুলিশ। রাজ্যসভায় ব্রিটাস অভিযোগ করেন, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দেওয়াই ছিল ঐশীর ‘একমাত্র ভুল’। সেই কারণেই দিল্লি পুলিশ জোর করে সিপিএম সদর দফতরে ঢুকে বাম ছাত্রনেত্রীকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ব্রিট্টাসের। পুলিশকর্মীরা উর্দি ছাড়াই দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ সাংসদের। ব্রিটাসের অভিযোগকে সমর্থন করেন খড়্গেও। তিনিও সুর চড়িয়ে বলেন, গণতন্ত্র নিরাপদ নয়, দেশের জনগণ নিরাপদ নয়। সিপিএমের দফতরে অভিযানে জড়িত আধিকারিকদের পাশাপাশি যারা এই অভিযানে অনুমোদন দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের আর্জি জানান রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা।