এক ঝলক

জলবিভাজিকা উন্নয়নে সংস্কার উৎসব, গুরুত্ব জল ও মাটি সংরক্ষণে

স্বপ্নীল মজুমদার (ঝাড়গ্রাম): জল ধরে রাখার পাশাপাশি মাটির উর্বরতা বাড়ানো, কৃষিতে সেচের সুযোগ বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ মানুষের জীবিকার উন্নয়নের লক্ষ্যে জলবিভাজিকা উন্নয়ন কর্মসূচিকে আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। সেই কর্মসূচিরই অংশ হিসাবে শুক্রবার ঝাড়গ্রাম ব্লক অফিসের রাজীব গান্ধী ট্রেনিং হলে সংস্কার উৎসব‌ অনুষ্ঠিত হল। জল ও মাটি সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং জলবিভাজিকা প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষি ও উদ্যান পালন প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু,জলবিভাজিকা প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. ভানু প্রকাশ মণ্ডল, প্রকল্প আধিকারিক ড. দিব্যেন্দু সামন্ত, জেলার উপ-কৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) মলয়কুমার মেইকাপ-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা। অনুষ্ঠানে জল সংরক্ষণ, মাটির ক্ষয় রোধ এবং কৃষিজমিতে সেচের সুযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। জলবিভাজিকা উন্নয়নের মাধ্যমে কী ভাবে বর্ষার জল ধরে রেখে তা কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফসলের বৈচিত্র্যকরণ, উদ্যানপালন এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
Ganamadhyam
04 October, 2026
জলবিভাজিকা প্রকল্পের কাজ শুধু প্রকল্প এলাকায় বিভিন্ন পরিকাঠামো তৈরি করেই শেষ নয়। তৈরি হওয়া জল ও মাটি সংরক্ষণ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ এবং তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের এই কাজে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রামস্তরে সচেতনতা বাড়িয়ে জল ও ভূমি সংরক্ষণে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথাও অনুষ্ঠানে বলা হয়। জলবিভাজিকা প্রকল্পের কাজের সঙ্গে কৃষির যোগ সরাসরি। বর্ষার জল ধরে রাখা গেলে কৃষিজমিতে সেচের সুযোগ বাড়ে। এর ফলে এক দিকে চাষের পরিধি বাড়ানো সম্ভব হয়, অন্য দিকে একই জমিতে একাধিক ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হতে পারে।ফসলের বৈচিত্র্য আনলেও কৃষকদের আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।সেই কারণে জল সংরক্ষণের পাশাপাশি কৃষির ধরন বদল এবং কৃষকদের জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প আধিকারিক ড. দিব্যেন্দু সামন্ত বলেন, জলবিভাজিকা উন্নয়নের মূল লক্ষ্য শুধু জল ধরে রাখা নয়, সেই জলকে কাজে লাগিয়ে কৃষি ও মানুষের জীবিকার উন্নতি ঘটানো। জল ও মাটি সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পের কাজের পাশাপাশি গ্রামস্তরে সচেতনতা বাড়ানো এবং তৈরি হওয়া সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণের উপরও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, জল ও মাটি সংরক্ষণকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই দেখতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে গেলে হবে না, স্থানীয় স্তরে মানুষকে এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। জলবিভাজিকা এলাকার মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী জল সংরক্ষণ, কৃষি ও জীবিকার পরিকল্পনা করা গেলে প্রকল্পের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে। ঝাড়গ্রামের মতো জেলায় কৃষি ও গ্রামীণ জীবিকার সঙ্গে জলের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষার জল ধরে রেখে তা প্রয়োজনের সময়ে ব্যবহার করা গেলে চাষের ক্ষেত্রে জলাভাবের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে মাটির ক্ষয় রোধ করাও সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যেই জলবিভাজিকা উন্নয়ন কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করে তুলতে ‘সংস্কার উৎসব’-এর মাধ্যমে জনসচেতনতা ও জনঅংশগ্রহণ বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হল।
ই-পেপার