প্রদীপ কুন্ডু (কোচবিহার): রাত তখন দু’টো। ঘুমের শহর তখনও পুরোপুরি জাগেনি। কিন্তু আধার কার্ড আপডেট করাতে দিনহাটা পোস্ট অফিসের সামনে তখন থেকেই লম্বা লাইন। কারও হাতে টর্চ, কেউ মশার কামড় উপেক্ষা করে অপেক্ষা করছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ভোর গড়িয়ে সকাল হলেও সেই অপেক্ষার শেষ হয়নি অনেকের। আধার আপডেটের স্লিপ না মেলায় শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সাধারণ মানুষ।
শনিবার সকালে দিনহাটা পোস্ট অফিস চত্বরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকের হাতে আধার আপডেটের স্লিপ দেওয়া হয়নি। ফলে রাত থেকে অপেক্ষা করা মানুষদের একাংশের দাবি, তাদের এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও পরিষেবা না মেলায় কার্যত খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করা থেকে শুরু করে নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্য সংশোধন বিভিন্ন প্রয়োজনে নিয়মিত পোস্ট অফিসে ভিড় করছেন মানুষ। কিন্তু পরিষেবা পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় প্রায়ই দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। অনেককে ভোররাত থেকেই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ।
শনিবার সেই ক্ষোভই প্রকাশ্যে আসে। বিক্ষোভ চরমে পৌঁছলে খবর যায় দিনহাটা থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ-প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় বলে জানা গিয়েছে।
তবে সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হলেও স্থানীয়দের ক্ষোভ কাটেনি। তাদের বক্তব্য, এক দিনের সমস্যা নয়, দীর্ঘদিন ধরেই আধার আপডেট করাতে গিয়ে এই ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। সীমিত সংখ্যক স্লিপ বা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়েও কাজ করাতে পারছেন না। স্থানীয়দের দাবি, দিনহাটায় আধার আপডেটের জন্য আরও কেন্দ্র চালু করা হোক। পাশাপাশি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা তৈরি করা হলে ভোররাত থেকে সাধারণ মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না বলেও তাদের মত। শনিবারের ঘটনার পর ফের সামনে এল ডিজিটাল পরিচয় পত্রের তথ্য সংশোধনের মতো জরুরি পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা ও দুর্ভোগের ছবি। এখন অতিরিক্ত আধার পরিষেবা কেন্দ্র চালুর দাবিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সে দিকেই তাকিয়ে স্থানীয়রা।