এক ঝলক

পর্যটকদের নিরাপত্তায় কড়া রাজ্য, হোমস্টে নিয়ে সতর্কবার্তা পর্যটনমন্ত্রীর

খাদিমুল ইসলাম (বানারহাট): দার্জিলিংয়ের সিটংয়ের সাম্প্রতিক ঘটনার পর পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার আরও কড়া পদক্ষেপ করবে। পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষকে প্রয়োজনীয় অনুমতি, নথিপত্র ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি মেনে চলার বার্তা দিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত পর্যটন বিষয়ক স্টেকহোল্ডার সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিটংয়ের প্রসঙ্গ তুলে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠান বা হোমস্টে পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারি অনুমতি ও নথিপত্র না থাকলে প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশা করা যায় না। তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং পর্যটন ব্যবসায় নিয়ম মেনে চলা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও মন্ত্রী জানান, দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার জেলাশাসকদের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। সরকারি নথিভুক্তিকরণ ছাড়া কেউ ‘হোমস্টে’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারবেন না বলেও তিনি জানান। পর্যটকদের উদ্দেশে তার পরামর্শ, সরকারি রেজিস্ট্রেশন নেই এমন হোমস্টেতে না থাকার। সেমিনারে পর্যটনকেন্দ্রগুলির পরিচ্ছন্নতা এবং রেস্তরাঁগুলির পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও উঠে আসে। পাশাপাশি ইকো-সেনসিটিভ জোনে নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলার উপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
Ganamadhyam
04 October, 2026
মিরিক লেকের উন্নয়নে ৫৭ কোটি টাকা। পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, মিরিক লেকের আধুনিকীকরণ ও উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের স্বদেশ দর্শন প্রকল্পের আওতায় ৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মিরিককে আরও উন্নত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও পুরুলিয়ায় পলাশ উৎসব, সান্দাকফুতে ভিন্টেজ কার র‍্যালি-সহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। জলপাইগুড়ির করলা নদী নিয়েও পরিকল্পনা জলপাইগুড়ির করলা নদীর সৌন্দর্যায়ন নিয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান পর্যটনমন্ত্রী। পাশাপাশি ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট, ওয়ান ডেস্টিনেশন’-এর আওতায় জলপাইগুড়ি জেলার কোন পর্যটনকেন্দ্রকে সামনে রাখা হবে, তা দ্রুত নির্ধারণ করে পর্যটন দফতরকে জানানোর জন্য জেলাশাসকের কাছে অনুরোধ করেন তিনি।
জেলার পর্যটকদের সুবিধার জন্য দ্রুত ট্যুরিস্ট হেল্পলাইন চালুর বিষয়েও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। ১২,৬৩৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাবও উঠেছে। পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সাম্প্রতিক পর্যটন বিনিয়োগ সম্মেলনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কাছে ১২,৬৩৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এই পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে রাজ্য সরকার পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। পর্যটনমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পর্যটন পরিকাঠামোর জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে এবং সরাসরি পরিকাঠামোগত বিনিয়োগ হিসেবে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা আকর্ষণের লক্ষ্য রয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে নতুনভাবে প্রচারের ক্ষেত্রেও সোশ্যাল মিডিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের প্রচারমূলক রিল তৈরির পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
সেমিনারে পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন প্রস্তাব মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। পর্যটন ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও ডুয়ার্স ও উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন বিধানসভা এলাকার জনপ্রতিনিধি, জেলাশাসক, পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিক-সহ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। সব মিলিয়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা, হোমস্টের নিয়মকানুন, পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা এবং বিনিয়োগ— এই একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে আরও সংগঠিত করার বার্তা দিলেন পর্যটনমন্ত্রী। আগামী দিনে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সরকারি ও বেসরকারি পক্ষগুলিকে নিয়ে আরও বৈঠকের কথাও জানানো হয়েছে।
ই-পেপার