ডিম ছুঁড়লে পিস্তল দিয়ে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি, কীর্তি আজাদের
সার্থক কুমার দে (দুর্গাপুর): ডিম ছোঁড়া নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আত্মরক্ষার অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে পিস্তল রাখার জন্য লাইসেন্সের আবেদন করার কথা জানালেন বর্ধমান–দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ। সোমবার দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার মন্তব্য ঘিরে দুর্গাপুরে বিতর্কের পাশাপাশি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও।
এদিন কীর্তি আজাদ বলেন, স্কুলের মিড ডে মিলে ডিম বন্ধ, পরিবর্তে এখন ডিম ছোঁড়া হচ্ছে। ডিম খাওয়ার জন্য, নাকি মারার জন্য—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এরপরই আত্মরক্ষার অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে সাংসদ বলেন, আত্মরক্ষার অধিকার সবার রয়েছে। পিস্তল রাখার জন্য লাইসেন্সের আবেদন তিনি করেছেন বলেও জানান। একই সঙ্গে আরএসএস ও বিজেপিকে নিশানা করে তার দাবি,স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের কোনও ভূমিকা ছিল না। কীর্তির কটাক্ষ, "লাফাঙ্গার" দল এরা।
নিজেকে ভীতু নন বলেও দাবি করেন কীর্তি আজাদ। তিনি বলেন, ভারতের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন এবং বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। তাই তাকে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কীর্তি আজাদের এই মন্তব্যের পাল্টা সরব হন বিজেপি বিধায়করা। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই বলেন, উনি দিল্লি গিয়েছিলেন সেটিং করতে। সেটিং হয়নি । তাই উল্টোপাল্টা বকছেন। অন্যদিকে, দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায় কীর্তি আজাদের পুরনো অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, কীর্তি আজাদ এর আগে নিজের দলের এক বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সিবিআইকে চিঠি দিয়েছিলেন। পরে ভাইপো ( অভিষেক ) বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেই চিঠি প্রত্যাহার করে নেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিজেপি বিধায়কের বলেন অভিযোগ কেন প্রত্যাহার করেছিলেন, এই প্রশ্নটা ওনাকে করুন।
একদিকে সাংসদের আত্মরক্ষার অধিকার ও পিস্তলের লাইসেন্স সংক্রান্ত মন্তব্য, অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ—সব মিলিয়ে কীর্তি আজাদের বক্তব্যকে ঘিরে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।