এক ঝলক

ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়তেই ১২টি হটস্পটে কড়া নজর

নিজস্ব সংবাদদাতা: ডেঙ্গির সংক্রমণ বাড়তেই রাজ্যজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করল নবান্ন। সাম্প্রতিক সময়ে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি,এমন ১২টি এলাকাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে প্রশাসন। ডেঙ্গি প্রতিরোধে প্রচার ও সচেতনতা কর্মসূচির জন্য ইতিমধ্যেই ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৭,৩২০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। উদ্বেগ বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক সংক্রমণের গতি। গত দু’সপ্তাহেই প্রায় ২,৬০০ জনের নতুন করে ডেঙ্গি ধরা পড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় এগিয়ে কলকাতা পুর এলাকা। বিশেষ নজরে রয়েছে ২, ৫, ১৬, ৭৭ এবং ১১৭ নম্বর ওয়ার্ড। কলকাতার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম বর্ধমানের একাধিক এলাকাকেও হাই-রিস্ক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ নং ব্লকে ১০৩ জন, নওদায় ৫১ এবং লালগোলায় ৩২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। নদিয়ার তেহট্ট-১ ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪ জন। হাওড়া পুর এলাকায় ৪৪ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তার মধ্যে ১৫, ২১ এবং ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। হুগলির পোলবা ব্লকে ৩৮ জন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ১ ও ২ ব্লক মিলিয়ে ৬৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আসানসোল পুর এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ জন। ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের নেতৃত্বে বৈঠক হয়। স্বাস্থ্য, পুর, পুলিশ-সহ ১৬টি দপ্তরের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে দ্রুত তা নষ্ট করা এবং নজরদারি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রশাসনিক স্তরেই নয়,ডেঙ্গি প্রতিরোধে স্কুলগুলিকেও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত স্কুলে ডেঙ্গি সচেতনতা কর্মসূচি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের (ডিআই) এই কর্মসূচি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ফলে পুজোর মরশুমে সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যেই প্রশাসনের নজর এখন চিহ্নিত ১২ টা হটস্পটের দিকে।
Ganamadhyam
02 October, 2026
ই-পেপার