এক ঝলক
নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে, অনিয়ম রুখতেই অন্নপূর্ণা’য় তথ্য যাচাই : মুখ্যমন্ত্রী কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাইয়ের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের ধর্মীয় সমাবেশে পাকিস্তানের গোয়েন্দা, স্বীকারোক্তি ধৃত পাক চরের মাইক খোলা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা খারিজ হাইকোর্টে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদের ভবিষ্যত ঝুলেই রইলো

এক নাগাড়ে বৃষ্টিতে প্লাবিত কলকাতা, হাওড়ায় ভাঙল বাড়ি

নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপরে থাকা স্পষ্ট নিম্নচাপ এবং বর্ষা অক্ষরেখার জোড়া ফলা। সপ্তাহের প্রথম দিনেই অঝোর ধারায় ভিজল মহানগরী সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। সোমবার সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা, দিনভর টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন কলকাতার একাধিক নিচু এলাকা। কর্মব্যস্ত দিনে রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হলো অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে। জল জমে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ। যার জেরে সর্বত্রই স্তব্ধ যানবাহনের গতি। অন্যদিকে হাওড়ায় ভারী বৃষ্টির জেরে একটি তিনতলা বাড়ির অংশ ভেঙে পড়ে বিপত্তি ঘটেছে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতির মাঝে সোমবার বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম, এই তিন জেলায় অতি প্রবল বৃষ্টির লাল সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারি করেছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
Ganamadhyam
18 August, 2026
এদিকে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুসারে সোমবার ভোর থেকেই বৃষ্টি শুরু হয় শহরে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বেলগাছিয়ায় (১০৪ মিলিমিটার)।এছাড়া মানিকতলায় ৯১ মিমি, পাগলাডাঙায় ৯৩ মিমি, তপসিয়ায় ৮৫ মিমি এবং ঠনঠনিয়ায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।বৃষ্টির জেরে ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি এলাকা, কলেজ স্ট্রিট, আমহার্স্ট স্ট্রিট, দক্ষিণ বেহালা, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, গড়িয়াহাট সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমে যায়। ঠনঠনিয়ায় অনেক জায়গায় জল প্রায় হাঁটু স্পর্শ করে। সেখানে নিকাশি ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের জন্য পুরসভার কাজ চলায় জল নামতে দেরি হচ্ছে বলে খবর। এছাড়া উত্তর কলকাতার মহাত্মা গান্ধী রোড, বিধান সরণি এবং পাতিপুকুর আন্ডারপাসেও জমে জল।এর প্রভাব পড়ে ইএম বাইপাস ও সল্টলেক সংলগ্ন এলাকাতেও। চিংড়িঘাটা থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এবং সাইন্স সিটির দিক থেকে চিংড়িঘাটামুখী রাস্তায় গাড়ি চলাচলের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর।
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকাল থেকেই সক্রিয় কলকাতা পুরপ্রশাসন। নিকাশি বিভাগের ডিজি শান্তনু ঘোষ সব ক’টি বরোর এগ্‌জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি নজরদারি করছেন। খবর পেয়ে শহরের সমস্ত ১৬টি বরোর পাম্পিং স্টেশনগুলিকে একযোগে চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুর আধিকারিকরা কয়েক দফায় বৈঠক করেন। দ্রুত জল সরানোর চেষ্টা চালানো হলেও টানা বৃষ্টির কারণে জমা জল নামাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানানো হয় কলকাতা পুরসভার তরফ থেকে।
অন্যদিকে হাওড়ায় টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর হাওড়ার বাবুডাঙা এলাকায় একটি জীর্ণ তিনতলা বাড়ির ভেতরের অংশ আচমকা খসে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাড়ির মালিক ভেতরেই ছিলেন। ফলে আটকে পড়েন তিনি। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান দমকল কর্মীরা। দীর্ঘ চেষ্টার পর আটকে থাকা ব্যক্তিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এদিকে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপ এবং পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত বর্ষাকালীন অক্ষরেখার প্রভাবে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে এই দুর্যোগ চলবে। সোমবারের পর মঙ্গলবারেও  দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কমবে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও মঙ্গলবার পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে। সোমবার জলপাইগুড়ি ও কালিম্পঙে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার দার্জিলিং ও আলিপুরদুয়ারেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় মঙ্গলবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যেতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি এও আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে এও জানানো হয় যে, সোমবারে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি কম।
ই-পেপার