এক ঝলক
সোমবার বিধানসভায় ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর দলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজই থাকছে, মামলায় ধাক্কা মমতাপন্থী তৃণমূলের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে সংসদ অভিযান, যন্তরমন্তরে তুলকালাম সংসদের বাদল অধিবেশনে রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি দফতরে বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব, ইংরাজির পরিবর্তে রাজভাষা ব্যবহারের পরামর্শ

কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে রাজ্যের আট একলব্য বিদ্যালয়

স্বপ্নীল মজুমদার(ঝাড়গ্রাম): রাজ্যের আটটি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় (ইএমআরএস) এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল এডুকেশন সোসাইটি ফর ট্রাইবাল স্টুডেন্টস (এনইএসটিএস)- এর আওতায় চলে যাচ্ছে।
Ganamadhyam
21 July, 2026

 
পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ ও শিক্ষা পর্ষদ এবং এনইএসটিএস-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (মৌ) স্বাক্ষরিত হওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর জেরে শুধু রাজ্য বোর্ডের পরিবর্তে সিবিএসই পাঠ্যক্রম চালুই নয়, বদলে যাচ্ছে ছাত্রভর্তি ও শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থাও। একই সঙ্গে ছাত্রপিছু বার্ষিক আর্থিক বরাদ্দও উল্লেখ যোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে।
ঝাড়গ্রামের একলব্য বিদ্যালয়টির পরিস্থিতি অবশ্য কিছুটা আলাদা। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির পরিচালনার দায়িত্ব ২০১৬ সালে রাজ্য সরকার রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে তুলে দেয়। সরকারি অর্থে পরিচালিত হলেও শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং সরকারি বরাদ্দের ব্যয় পরিচালনার দায়িত্ব এতদিন মিশনই সামলাত। তবে এনইএসটিএস-এর আওতায় যাওয়ার পরে সেই ব্যবস্থার কী পরিবর্তন হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনও কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা আসেনি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে ছাত্রভর্তির ক্ষেত্রে। এতদিন লটারির মাধ্যমে ভর্তি হলেও এবার এনইএসটিএস-এর নিয়ম অনুযায়ী প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী নির্বাচন করা হবে। শিক্ষামহলের একাংশের মতে, প্রান্তিক এলাকার একলব্য বিদ্যালয়গুলিতে আদিম জনজাতি শবর-সহ বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায়ের অধিকাংশ পড়ুয়াই প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী। ফলে প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যাপ্ত ছাত্রছাত্রী পাওয়া যাবে কি না এবং সব আসন পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিদ্যালয়গুলি পুরোপুরি সিবিএসই-র আওতায় চলে যাবে। বর্তমানে নবম ও একাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারাই যথাক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শেষ রাজ্য বোর্ডের ব্যাচ হবে।অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের এনসিইআরটি -ভিত্তিক সিবিএসই পাঠ্যক্রমে পড়াশোনা করতে হবে।
এই পরিবর্তনের পাশাপাশি আর্থিক বরাদ্দও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। এতদিন ছাত্রপিছু বার্ষিক বরাদ্দ ছিল ৬১ হাজার ৫০০ টাকা। এনইএসটিএস-এর আওতায় আসার পর তা বেড়ে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সম্পাদক স্বামী বেদপুরুষানন্দ বলেন, সরকারি নির্দেশ মেনেই আমরা নতুন ব্যবস্থায় এগিয়ে যাবো। আমাদের আশা, বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা যেন এখানেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। পাশাপাশি, প্রান্তিক এলাকার প্রথম প্রজন্মের জনজাতি পড়ুয়াদের সিবিএসই-র নতুন পাঠ্যক্রম ও ইংরেজিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সেই কারণে রূপান্তরের সময় তাদের প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ই-পেপার