গ্রুপ শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের নকআউটে উঠলেও সেখানে এই ফুটবল খেললে কিন্তু সমস্যা হতে পারে তাদের। গ্রুপের অন্য ম্যাচে ঘানাকে হারিয়ে আরও এক বার নকআউটে উঠল ক্রোয়েশিয়া। তিন নম্বরে শেষ করল ঘানা। কিন্তু ৪ পয়েন্ট পাওয়ায় তারাও নকআউট প্রায় পাকা করে ফেলেছে। তবে সেই ঘোষণা হবে গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর। ম্যাচ শুরুর বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে উল্লাস করতে শুরু করেছিলেন ইংরেজ সমর্থকেরা। স্বাভাবিক। এমন একটা দলের বিরুদ্ধে তাঁরা নামছিলেন, যারা এই বিশ্বকাপে একটিও গোল করতে পারেনি। সেই তাদের দেখে মনে হল, গোল করার লোক থাকলে পিছিয়ে পড়ত ইংল্যান্ড। অন্তত প্রথমার্ধে তো বটেই। ইংল্যান্ডের একটাই পরিকল্পনা। বাঁ প্রান্ত দিয়ে মার্কাশ রাশফোর্ড ও ডান প্রান্ত দিয়ে বুকায়ো সাকা বার বার ক্রস তুলবেন। বক্সে দাঁড়িয়ে থাকা হ্যারি কেন, জুড বেলিংহ্যামেরা গোল করবেন। কিন্তু দুই উইঙ্গার আটকে গেলে কী হবে? থ্রু বল কোথায়? প্রথমার্ধে তো কেনকে দুরবীন দিয়ে খুঁজতে হল। একটা সময় ২০ মিনিটের খেলা মাত্র এক বার বলে পা দিয়েছেন। দলের সেরা স্ট্রাইকারের এই হাল হলে গোল কী ভাবে হবে? সাউথগেটের আমলে ইংল্যান্ডের ফুটবলে একটা ছন্দ ছিল। কার কী দায়িত্ব সকলে জানতেন। খেলাটা দেখতে ভাল লাগত। কিন্তু এই ইংল্যান্ডের ফুটবল মন ভরাতে পারে না। সেই একই রকম আক্রমণ। কোনও প্ল্যান বি নেই। ছন্দ নেই। কাকে কী করতে হবে বুঝতে পারছেন না। দলের নামের পাশে ইংল্যান্ড লেখা না থাকলে বোঝার উপায় নেই যে, এই দলটাই গত ছ’সাত বছরে কী দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। বলের দখল ইংল্যান্ডের অনেক বেশি ছিল। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বলের দখলই যে শেষ কথা বলে না তা স্পেনের থেকে ভাল কে বুঝবে? কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে গোটা ম্যাচে বলের দখল রেখেও তো পয়েন্ট নষ্ট করতে হয়েছে। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের খেলা দেখে সেটাই মনে হচ্ছিল। ডেকলান রাইসকে কোন বুদ্ধিতে প্রথম একাদশে রাখলেন না টুখেল? তিনিই যে দলের খেলা চালান, তা কি কোচ বুঝতে পারছেন না? অপর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে যাওয়ায় ইংরেজ সমর্থকেরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কারণ, স্কোরলাইন তেমনটা থাকলে রাউন্ড অফ ৩২ থেকেই কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে পড়তে হত ইংল্যান্ডকে। টুখেল হয়তো সাইডলাইন থেকে কেনদের জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে। তাই প্রথমার্ধের শেষ দিকে তাদের খেলায় কিছুটা বাড়তি তাগিদ দেখা গেল। কিন্তু গোল আসেনি। দ্বিতীয়ার্ধে বেলিংহ্যামের একক দক্ষতায় এগোল ইংল্যান্ড। কর্নার থেকে মার্কারকে ঘাড়ের উপর নিয়ে পায়ের টোকায় গোল করলেন তিনি। ব্যস, সেখানেই পানামার প্রতিরোধ শেষ। ছোট দলগুলির এটাই হয়। এক বার গোল খেয়ে গেলে গোল করার চেষ্টায় রক্ষণ দুর্বল হয়ে যায়। তার সুযোগ তুললেন কেন। প্রথমার্ধে দেখা না গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে বেলিংহ্যামের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ২-০ করলেন তিনি। পানামা কিন্তু লড়াই ছাড়েনি। এক বার জালে বল জড়িয়েও দিয়েছিল। কিন্তু অফসাইডে তা বাতিল হল। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে জিতে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড। কিন্তু তাদের রক্ষণে যে ভাবে মাঝে মাঝেই পানামা ঢুকে পড়ল, তা চিন্তা বাড়াবে টুখেলের। পানামা হয়তো গোল করতে পারেনি। কিন্তু বড় দল সুযোগ ছাড়বে না। নকআউটের আগে এই রোগ সারাতে না পারলে ভুগতে হতে পারে ইংল্যান্ডকে।