মুখ্য সমাচার :
আপনারা সহযোগীতা করুন, পশ্চিমবঙ্গ আবার তার স্বগরিমায় ফিরে আসবে ঃ শুভেন্দু অধিকারী শুভেন্দুর গড়ে ধরাশায়ী তৃণমূল

শুভেন্দুর গড়ে ধরাশায়ী তৃণমূল

সন্ন্যাসী কাউরী(তমলুক): সময় যত এগোচ্ছে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং সহ সভাধিপতি নির্বাচনে জয়লাভ করল বিজেপি। এই প্রথম রাজ্যের কোন জেলা পরিষদ দখল করল বিজেপি । আর এই ঘটনায় শুভেন্দুর গড়ে কার্যত ধরাশায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ৭০।
Pressman
23 June, 2026
 ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৫৬ টি আসনে এবং বিজেপি ১৪ টি আসনে জয় লাভ করে। সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য উত্তম বারিক। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদল ঘটে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬ টি বিধানসভার সবকটিতেই জয় লাভ করে বিজেপি। ফল ঘোষণার এক মাসের মধ্যেই ৫ই জুন জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক মেদিনীপুরের ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন। সাত দিনের মধ্যে হেয়ারিং এবং পরবর্তীতে পদ খারিজের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আজ সোমবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিন সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতি নির্বাচনে ৭০ জন সদস্যের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ৫০ জন এবং বিজেপির ১৪ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সদস্যদের পক্ষ থেকে সভাধিপতি হিসেবে বামদেব গুছাইত এবং সহ-সভাধিপতি হিসেবে বাঁশরি পন্ডিতের নাম প্রস্তাব করা হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের ৫০ জন সদস্য তার সমর্থন করেন। বিনা বিরোধিতায় বামদের গুছাইত এবং বাঁশরি পন্ডিত যথাক্রমে সভাধিপতি, সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য বামদেব গুছাইত জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা ছিলেন। সভাধিপতি নির্বাচিত হওয়ার পর উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা বামদেব এবং বাঁশরি পন্ডিতকে সংবর্ধনা জানাতে জেলা পরিষদে হাজির হন।
সভাধিপতি বামদেব গুছাইত বলেন, দায়িত্ব অনেকটা বেড়ে গেল। সকল জেলা বাসিকে অভিনন্দন জানাই। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলা জুড়ে যে উন্নয়ন সেই উন্নয়নে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত জেলা পরিষদের সদস্যরা বিরোধিতা না করে সেই উন্নয়নে সামিল হয়েছেন তাদেরকেও তিনি অভিনন্দন জানান। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদ সদস্য তরুন জানা বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে আমরা জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব গুছাইত কে সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য সমর্থন করেছি। আগামী দিনে উন্নয়নের কাজে আমরা সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবে বলে জানান তরুণ জানা। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগদান করার পর বিভিন্ন সভা মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসকে এ রাজ্য থেকে উৎখাত করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুই জায়গা থেকে জিতে দেখিয়েছেন। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ শুভেন্দু অধিকারীর কাছে কার্যত ধরাশায়ী মমতা অভিষেক। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূলের সাম্রাজ্য। সাংসদ থেকে বিধায়ক পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ সদস্য একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পদত্যাগ করছেন। নবনির্বাচিত সভাপতি বামদেব গুছাইত আরও বলেন, গোটা বাংলাকে পথ দেখায় পূর্ব মেদিনীপুর। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ দিয়ে শুরু হল । আগামী দিনে রাজ্যের একের পর এক জেলা পরিষদ বিজেপির দখলে আসবে।
ই-পেপার