এক ঝলক
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে দেশের মধ্যে সেরা পুলিশ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে : মুখ্যমন্ত্রী বিধায়কের উদ্যোগে ভেরি সিন্ডিকেট বন্ধ করে সরকারের কোষাগারে গেল টাকা প্রিয়াঙ্কার খোঁচা আপাতত ৬ আগষ্ট পর্যন্ত ৩ মামলায় অভিষেককে রক্ষাকবচ এনকাউন্টার নিয়ে আদালতের রিপোর্ট তলব

আপাতত ৬ আগষ্ট পর্যন্ত ৩ মামলায় অভিষেককে রক্ষাকবচ

নিজস্ব সংবাদদাতা: শুভেন্দু অধিকারীর মামলার নজির টেনেও বিশেষ লাভ হল না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। হাইকোর্টে সীমিত রক্ষাকবচ পেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়।
Ganamadhyam
31 July, 2026



আদালত সূত্রে খবর, আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত ৩ মামলায় মিলেছে এই রক্ষাকবচ। আগামী ৬  আগস্ট ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে। আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে এই অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ। অভিষেকের আইনজীবীর তরফে এদিন সওয়াল করতে গিয়ে জানান, শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বিরোধী দলনেতা থাকার সময় তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক মামলায় রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাই কোর্ট। ভবিষ্যতে আদালতকে না জানিয়ে যাতে কোনও এফআইআর দায়ের না-করা হয়, তার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। এবার অভিষেকের ক্ষেত্রেও তেমন নির্দেশ দেওয়া হোক বলে আবেদন জানান ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সে সময় রাজ্য সরকার বলেনি যে প্রত্যেক এফআইআরের জন্য আলাদা আলাদা মামলা করতে হবে, যেমনটা বর্তমান রাজ্য সরকার বলেছে। তাই সব মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া যাবে না। তা ছাড়া অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের ১১টির মধ্যে তিনটি মামলার নথি আদালতে জমা দিয়েছে রাজ্য। সেই কারণে আপাতত ভবানীপুর, কালীতলা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে থানায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। এদিন রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসবি রাজু জানান, অভিষেকের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি একাধিক এফআইআর বাতিলের আবেদন করেছেন। আইনে এ ভাবে এত এফআইআর একসঙ্গে একটি আবেদনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। একটি মামলা করে সব এফআইআর জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রতি এফআইআরের জন্য একটি করে আলাদা মামলা করতে হয়। এদিকে অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণের সওয়াল, রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া সব এফআইআরের কপি তাঁদের হাতে নেই। তাই সব মামলার তথ্য আদালতে দেওয়া সম্ভব হয়নি। কয়েকটি এফআইআরের নাম দেওয়া হয়েছে, তবে সব তথ্য নেই। যে কটা মামলার কথা উল্লেখ করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলিতে আপাতত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিক আদালত। এই সূত্রেই অভিষেকের আইনজীবী শুভেন্দুর করা আবেদনের প্রসঙ্গ টেনে এনে জানান, আগেও একই পরিস্থিতিতে আদালত একসঙ্গে বহু এফআইআর নিয়ে শুনানি করেছে। এ ক্ষেত্রেও শুনানি করা যেতে পারে। তৃণমূল যখন সরকারে ছিল, তখন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর হয়েছিল। হাইকোর্ট এক সঙ্গে বহু এফআইআর নিয়ে একসঙ্গে শুনানি করেছিল। সে সময় কোর্ট এ-ও বলেছিল, তৎকালীন বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর করার আগে আদালতের অনুমতি লাগবে। গোপালের বক্তব্য, তাঁর মক্কেলের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ দেওয়া হোক। এরই প্রেক্ষিতে বিচারপতি ,সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, শুভেন্দুর মামলায় একসঙ্গে সব এফআইআর নিয়ে শুনানি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তখন রাজ্যের তরফে বলা হয়নি যে, প্রতি এফআইআরের জন্য আলাদা মামলা করতে হবে। তাই সেই মামলাকে নজির হিসাবে ধরা ঠিক নয়। বিচারপতি আরও বলেন, তবে এটাও ঠিক, এ ভাবে যদি একের পর এক মামলা দায়ের হয়, সে ক্ষেত্রে মামলার সংখ্যা বাড়বে। আদালতের সময় নষ্ট হবে। এর পাশাপাশি অভিষেকের আইনজীবী গোপালের বক্তব্য, অভিষেকের বিরুদ্ধে এখন যে এফআইআর দায়ের হচ্ছে, তার বেশির ভাগ অভিযোগ পাঁচ-ছয় বছর আগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে এফআইআর হচ্ছে। এ সবের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এর পরেই গোপাল একে একে উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ডিজে নিয়ে মন্তব্য অভিষেক করেছিলেন গত এপ্রিলে। এফআইআর হয়েছে জুনে। ত্রাণ বণ্টন নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ২০২০ সালের। সেই এফআইআরও হয়েছে এখন। আইনজীবীর সওয়াল, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আটটি এফআইআর করা হয়েছিল। এখন আরও তিনটি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও এফআইআর হতে পারে। আদালত নির্দেশ দিক, তার অনুমতি ছাড়া অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা যাবে না। যেমন শুভেন্দুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছিল।অভিষেকের আইনজীবীর এই বক্তব্য শুনে বিচারপতি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এফআইআর হবে কি না, তা নিয়ে নির্দেশ দেব না। যে এফআইআরগুলি হয়েছে, তা নিয়েই শুনানি হোক।’ এরপরেই সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার মন্তব্য, অভিষেক এমন নির্দেশ চাইছেন যে, ভবিষ্যতে কী হবে, তা আদালত বলে দেবে। এই ঘটনায় অভিষেকের আইনজীবীর বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পুরনো অভিযোগ নিয়ে এখন মামলা করা হচ্ছে। এই নিয়ে রাজ্য সরকারের আইনজীবীর সওয়াল, পুরনো অভিযোগ নিয়ে এফআইআর হলে অসুবিধা কোথায় সে ব্যাপারেও। আগে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এফআইআর না-ও দায়ের হয়ে থাকতে পারে। এফআইআর দেরিতে করা হয়েছে বলে বাতিল করতে হবে, এই যুক্তি ঠিক নয়। এর উত্তরে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, অভিষেক যদি তদন্তে সহযোগিতা করেন, তা হলে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। তাঁর কথায়, ‘এফআইআর খারিজের আবেদন কিছু করছি না। অভিষেক যদি তদন্তে সহযোগিতা করেন, তা হলে তাকে এখনই গ্রেফতার করার দরকার রয়েছে কি? এরপরই রাজ্যের পাল্টা সওয়াল, গ্রেফতারের আশঙ্কা করলে অভিষেক আগাম জামিনের আবেদন করুন। হাইকোর্ট বলছে, আগের মামলায় রক্ষাকবচ দিয়েছি। তার পর আবার এফআইআর হয়েছে। এগুলিতে রক্ষাকবচ দিলে অসুবিধা কোথায়? তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন।’ এরপরই বিচারপতি ভট্টাচার্যের স্পষ্ট নির্দেশ, তিনটি থানা কালীতলা, বিষ্ণুপুর, ভবানীপুরে অভিষেকের বিরুদ্ধে যে এফআইআর হয়েছে, তা নিয়ে পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। বাকি আটটি এফআইআরের তথ্য আদালতে জমা দিতে রাজ্যকে নির্দেশ দেয় আদালত।
ই-পেপার