দুর্নীতি ইস্যুতে তার সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’’ নীতি নিয়ে চলতে চায়, সে কথা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২৫ জুলাই শনিবার কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া বা ক্যাগ-এর রিপোর্ট পেশ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। খোলা হবে আমফানের ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতির ফাইলও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত যত বড় নেতা বা মন্ত্রীই হোন না কেন, তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ক্যাগের রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা আবশ্যিক, তা নিয়ে আলোচনা করা উচিত। অথচ বিগত সরকারের সময়ে তা হয়নি। তার সঙ্গে লোকায়ুক্তের রিপোর্টও এই হাউসে প্রতি বছর প্লেস করা বাধ্যতামূলক ছিল। যা বিগত সরকার করেনি। আমরা এ ক্ষেত্রে খুব পরিষ্কার বলতে চাই, আগামী ২৫ তারিখ ক্যাগের রিপোর্ট প্লেস হবেই। পরবর্তী সেশনে আলোচনাও হবে। রিপোর্টে যে সুপারিশ রয়েছে, তার উপরে সিদ্ধান্ত নেব। যেখানে যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, সে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হন, মন্ত্রী হন আর যত বড় নেতাই হন, রাজ্যপালের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য সুপারিশ করব। আমফান দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। রাজ্যপালের কাছে সেই এফআইআরের সুপারিশ করা হবে। ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আমফানে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এবং উপকূল সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে সেই বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য অর্থসাহায্য করা হয়েছিল। তা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, টাকা বা ত্রাণসামগ্রী সাধারণ দুর্যোগকবলিত মানুষের কাছে পৌঁছোয়ইনি। ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশের কথা বলতে গিয়ে সেই প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমফানের সময় দু’দফায় ৩৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। আমফানে বড় দুর্নীতি হয়। কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়। তার প্রেক্ষিতে বিশেষ ক্যাগ তদন্ত হয়েছিল। তার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনাই হয়নি। সেখানে যাঁদের অভিযুক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল, তা-ও করা হয়নি। উল্লেখ্য, আমফান দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবারে আমপান দুর্নীতির ভূরি ভূরি অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। ক্যাগ রিপোর্টে তার উল্লেখ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও সুপারিশ রয়েছে কি না, স্পষ্ট নয়। তবে এই রিপোর্ট প্রকাশ করে শুভেন্দু ঘুরপথে সেই অভিষেককেই নিশানা করতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অভিষেকের বিরুদ্ধে বিবিধ মামলায় নানা এফআইআর রুজু করা হয়েছে। কিছু কিছু মামলা আদালতে বিচারাধীন। অভিষেকের তরফে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলা হয়েছে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে। রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি প্রণয়নের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে রাজ্য। যার মাথায় আছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই। সেই কমিটির রিপোর্ট আসার পরে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবে। এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে আমাদের ইউসিসি কমিটি হয়েছে।সেই রিপোর্ট চলে আসবে। আমরা বিশেষ অধিবেশন বসানোর জন্য রাজ্যপালের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে সুপারিশ করব যাতে আমফানের বিশেষ ক্যাগ রিপোর্ট-সহ ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে এই হাউসে আলোচনা হয়। এক ঝুড়ি লোক নিয়ে মঙ্গলবার বড় বড় ভাষণ যারা দিয়েছেন, তাদের মুখোশটাও আমরা অতি দ্রুত খোলার ব্যবস্থা করব। আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ হবে।