এক ঝলক
ইসকনের রথযাত্রায় অংশগ্রহণ মুখ্যমন্ত্রীর জাল নথি তৈরির চক্রের খোঁজে ইডির অভিযান উপরাষ্ট্রপতির কাছে কোয়েল মল্লিকের ইস্তফা বসিরহাটে ইডি-এটিএসের ম্যারাথন তল্লাশি, নিশানায় খারিজি মাদ্রাসা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সাত সকালে বাগদায় ইডির হানা

জাল নথি তৈরির চক্রের খোঁজে ইডির অভিযান

নিজস্ব সংবাদদাতা: রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশে চলছে সিন্ডিকেট। তৈরি হচ্ছে জাল নথি। চলছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন।
Ganamadhyam
17 July, 2026


এসবের সঙ্গে জড়িত চক্রের খোঁজে  ময়দানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট  বা ইডি। বাংলা-সহ দেশের ১৩ জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।  বৃহস্পতিবার কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় হানা দেয় ইডি। শুধু তাই নয়, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি এবং হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গাতেও ইডির আধিকারিকরা তল্লাশি চালান। কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী বেশ কিছু জেলায়, উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ, বাগদা, বসিরহাটে তল্লাশি অভিযান চালায় তদন্তকারী সংস্থা।  সূত্রের খবর, অবৈধ পথে সীমান্ত পেরিয়ে রাজ্যে ঢোকা রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের ভারতীয় নথি তৈরি করার একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক রয়েছে। তারা মোটা টাকার বিনিময়ে অনুপ্রবেশকারীদের আধার কার্ড, এপিক, প্যান কার্ড থেকে শুরু করে ই শ্রম কার্ডের মতো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেয়। সেই নথি দেখিয়েই পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষত, কর্নাটক, তামিলনাডু, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে দালালদের হাত ধরে পৌঁছে যায় অনুপ্রবেশকারীরা। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স মানবপাচার নিয়ে তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই খাস কলকাতায় চক্রের এক পান্ডার হদিশ পায়। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্তেই উঠে আসে, কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদে অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি তৈরির বড় চক্র সক্রিয়। বাংলা থেকে শ্রমিক সরবরাহের আড়লে দালালেরা অনুপ্রবেশকারীদের জাল নথি দিয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেয় বলে আদালতে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে রাজ্যের একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম।স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আড়ালে মানবপাচার চক্রের নথি তৈরি থেকে শুরু করে বিপুল টাকার আর্থিক লেনদেনের হদিশ মিলেছে। অনেক ক্ষেত্রেই মূল চক্রকে আড়াল করতে ‘ভাড়ার অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করা হয়েছে। ছোট ছোট অঙ্কের লেনদেন কিন্তু তা করা হয়েছে বহু অ্যাকাউন্ট থেকে। অবৈধভাবে ভারতে ঢোকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গাদের ভারতীয় নথি করে দেওয়ার বড়সড় একটা নেটওয়ার্ক এখনও বাংলায় সক্রিয়। এই বিষয়ে একাধিকবার পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে সতর্ক করে কেন্দ্র। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই এক্ষেত্রে নেওয়া হয়নি বলে বারবার বাংলায় এসে অভিযোগ করেছেন অমিত শাহ। সূত্রের খবর, নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত পান্ডারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড থেকে শুরু করে সমস্ত ভারতীয় পরিচত্রপত্র তৈরি করে দিচ্ছেন। সেই নথি দেখিয়েই উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছেন অনুপ্রবেশকারীরা। আর এই নেটওয়ার্ককে সমূলে উৎখাত করতে চায় সরকার! সেই লক্ষ্যেই বাংলা-সহ দেশের একাধিক জায়গায় তল্লাশি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। এর আগে এনআইএ বাংলাদেশ থেকে মহিলা এবং নাবালিকা পাচারের একটি চক্রের সন্ধানে রাজ্যের সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই সময়ও তদন্তে উঠে এসেছিল একটি সংগঠিত জাল নথি তৈরির চক্রের অস্তিত্ব, যারা আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সঙ্গে কাজ করে।
ই-পেপার