এক ঝলক
সোমবার থেকেই রাজ্যে লাগু গুন্ডাদমন আইন ১৪ বছর পর ফের খুলল বরুণ বিশ্বাস খুনের ফাইল  মুর্শিদাবাদ সফরে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি প্রকল্পের অনিয়ম ও ভাঙন রোধে সরব সন্তোষপুর মেটিয়াবুরুজ আখড়া ও চট্টার দর্জি শিল্প মহা সংকটে রাজেশ শর্মাকে দেখতে হাসপাতালে মন্ত্রী

১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে অভিষেককে, নির্দেশ কোর্টের

নিজস্ব সংবাদদাতা: আদালত বারবার কন্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এমনকী রক্ষাকবচও দেওয়া হয়েছে তাকে। তারপরও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে নমুনা দিতে যাননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এই প্রেক্ষাপটেই শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ, নমুনা দিতে যেতেই হবে অভিষেককে। পাশাপাশি আদালত এ প্রশ্নও তোলে, কোন ক্ষমতাবলে গত ৮ জুলাই হাজিরা এড়ালেন অভিষেক তা নিয়ে। সঙ্গে বিচারপতি এও জানতে চান, কেনই বা আবার গেলেন আদালতে সে ব্যাপারেও। ডিজে মন্তব্য নিয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, তাতে তদন্তের স্বার্থে যে কণ্ঠস্বরের নমুনা চাওয়া হয়েছে সিআইডি'র তরফ থেকে সে ব্যাপারে বারবার দিন নির্দিষ্ট করা হলেও হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন অভিষেক। তার বক্তব্য, ওই মন্তব্য যে তিনি করেছেন, তা কোথাও অস্বীকার করেননি তিনি। আর এখানেই অভিষেকের প্রশ্ন, সে ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে কেন? এদিকে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, তদন্তকারী সংস্থা অর্থাৎ সিআইডি-কে সাহায্য করতেই হবে অভিষেককে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা শ্রেয়,গত ৮ জুলাই বিধাননগর আদালতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে বলা হয়েছিল অভিষেককে। হাজিরা এড়িয়ে গিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। শুক্রবার হাইকোর্টে সেই মামলা আদালতে উঠলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, আপনাকে ভয়েস স্যাম্পেল দিতেই হবে। না হলে আমি নিজেই অর্ডার রি কল করব। আপনারা আদালতকে অ্যাবিউজ করছেন। যেটা হচ্ছে, সেটা ঠিক হচ্ছে না।
Ganamadhyam
11 July, 2026
এরপরই রীতিমতো ভর্ৎসনার সুরে বিচারপতি বলেন, আপনি ভয়েস দিন। ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দেওয়ার পরেও যাননি কেন? কোনও মামলাই শুনব না। সম্পূর্ণ প্রোটেকশন দেওয়া হয়েছিল। আপনি মামলা তুলে নিন। এরপরেও অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য এদিন আদালতে জানান, ভয়েস যে আমার, তা অস্বীকার করা হয়নি। কণ্ঠস্বর দেব না, সেটাও বলা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে কেন দিতে হবে। কারণ কণ্ঠস্বরের যে অন্য কারও সেটা বলা হয়নি। এ ব্যাপারে কখনও গোপন করা হয়নি কিছু। এরপরই মামলাকারীকে রক্ষাকবচের আর্জি জানান তিনি। তবে কোনও যুক্তিই শুনতে রাজি হননি বিচারপতি ভট্টাচার্য। বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, আপনি বাধ্য তদন্তকারী সংস্থাকে সাহায্য করতে। সঙ্গে অভিষেকের আইনজীবীকে এও বলেন, আপনি ১০ ঘন্টা ধরে বলুন, কিন্তু আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন না। পাশাপাশি বিচারপতি এও জানান, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নমুনা দিতে যেতে হবে না, এ কথা বলা হয়নি। আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যেতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এরপরই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, সব কিছুরই একটা সীমা আছে। তদন্তে সহযোগিতা না করলে রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেব। পুলিশের নোটিসের জবাব দিন এবং তদন্তে সহযোগিতা করুন। না হলে মামলা খারিজ করে জরিমানাও করা হতে পারে। হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর অভিষেকের আইনজীবী জানান, তার মক্কেল আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন। তবে সেই সময়ে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আবেদন জানানো হয়। বিশেষ করে, যাতে কেউ তাকে লক্ষ্য করে ডিম না ছোঁড়ে, সেই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে বিচারপতি এদিনও বলেন, এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত এবং রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে এমন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। সঙ্গে বিচারপতির রাজ্য সরকারকে নির্দেশ, আদালতে বা আদালতের বাইরে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ই-পেপার