এক ঝলক
বাঙালি সংখ্যালঘুরা সরকারের সঙ্গেই থাকতে চায়, প্রমাণ হল : শুভেন্দু অধিকারী বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে তাণ্ডবে পুলিশের জালে গড়িয়ার যুবক এসএসসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা

বাঙালি সংখ্যালঘুরা সরকারের সঙ্গেই থাকতে চায়, প্রমাণ হল : শুভেন্দু অধিকারী

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষনে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে করে বলেন দুই কেন্দ্রের সংখ্যালঘু ভোটাররা রাজ্য সরকারের উন্নয়নের সঙ্গে রয়েছেন সংখ্যালঘু ৬০ শতাংশ ভোট বিজেপি পেয়েছে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, সব কথা যে মিথ্যা ছিল, তা এখন প্রমাণীত। ​সুপ্রিম কোর্ট ও ভোটার তালিকা ইস্যুতে তোপ বিরোধীদের তোলা সব অভিযোগ নস্যাৎ করে দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বাঙালি মুসলমানরা সরকারের সঙ্গেই থাকতে চায়, ​দীর্ঘ ৩৩-৩৪ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বাংলায় রাজনৈতিক সমীকরণ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক সবসময় ক্ষমতাসীনদের পক্ষে থাকে। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বাঙালি মুসলমানরা কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলেন, তারপর ৩৩ বছর সিপিএমের সঙ্গে ছিলেন এবং ২০১১ সালের পর থেকে তারা তৃণমূলের পক্ষে গিয়েছেন। ​
Ganamadhyam
10 October, 2026
তার মতে, কংগ্রেস, সিপিএম ও তৃণমূল—প্রতিটি দলই প্রচার করেছিল যে রাজ্যে ৩০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা থাকার কারণে বিজেপি কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না।পাশাপাশি কিছু ধর্মান্ধ নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকও দাবি করেছিলেন যে তারা ১০০-র বেশি আসন নিয়ন্ত্রণ করেন তাই বিজেপিকে রোখা সম্ভব। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলী প্রমাণ করছে যে মানুষ এখন ভয়ের রাজনীতি কাটিয়ে মূল স্রোতে ফিরতে চায়।  ​সিপিএম- তৃণমূল গোপন আঁতাত এবং বিধানসভার প্রসঙ্গ টেনে ​শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, ইদানিং সময়ে সিপিএম এবং তৃণমূলের মধ্যে এক ধরণের রাজনৈতিক বোঝাপড়া স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি বিধানসভায় বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিলের ভোটাভুটির কথা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের জন্ম হয়েছিল সিপিএমের অপশাসন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, অথচ আজ বিধানসভায় তাদের একসঙ্গেই ভোট দিতে দেখা যাচ্ছে। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ আর পচা সামুকে পা কাটতে রাজি নয়।বিজেপির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী লক্ষ্যমাত্রা ​আগামী দিনের ভোটের পরিকল্পনা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী  স্পষ্ট জানান, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে। আগামী নির্বাচন গুলোর ক্ষেত্রে বিজেপির লক্ষ্য হলো 
​কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা। এই বছরের মধ্যেই হাওড়া ও কলকাতা কর্পোরেশনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামা। ​পৌরসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজ্যের ১১০টি পুরসভার নির্বাচনে পূর্ণ শক্তিতে লড়াই। পঞ্চায়েত নির্বাচন ২০২৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করা। ​২০২৯ লোকসভা নির্বাচন- ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে ৪২টিই জিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উপহার দেওয়া এবং রাজ্যে রাষ্ট্রবাদের বৃত্ত সম্পূর্ণ করে বিজেপির সরকার গঠন করা।  
​সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলায় রাষ্ট্রবাদী ও বিকাশমুখী রাজনীতির যে সূচনা হয়েছে, সাধারণ মানুষের সমর্থনে তা থামানো অসম্ভব। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ সকল সাধারণ মানুষের মাঝে কেন্দ্র সরকারের‌ জনকল্যাণমুখী নীতি, বিকাশ এবং বিকশিত ভারতের স্বপ্ন সম্পর্কে যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির 'সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস ও সবকা প্রয়াস' দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাবেই আজ মানুষ মানুষের বিভাজন দূর হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজ পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন ভোরের সূচনা হচ্ছে। বিগত দিনের কংগ্রেস, সিপিএম কিংবা বর্তমান তৃণমূলের ছকভাঙা বিভাজনের রাজনীতি আজ ব্যর্থ। বিশেষ করে আমাদের সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা আজ স্পষ্ট বুঝতে পেরেছেন—কারা রাজনৈতিক স্বার্থে তাদের কেবল 'ভোট ব্যাংক' বানিয়ে রেখেছিল, আর কারা প্রকৃতপক্ষে তাদের জীবনমানের সত্যিকারের উন্নয়ন চায়।​মানুষ আজ অনুধাবন করছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির 'গরীব কল্যাণ' যোজনা কোনো ধর্ম বা জাত দেখে দেওয়া হয় না—বিনামূল্যে চাল, পাকা বাড়ি, পানীয় জল কিংবা স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছায় প্রতিটি দরিদ্র মানুষের দরজায়।​২০৪৭ সালের মধ্যে 'বিকশিত ভারত' গড়ার যে স্বপ্ন মোদীজি আমাদের দেখিয়েছেন, তা 'বিকশিত বাংলা' ছাড়া অসম্পূর্ণ। সংখ্যালঘু সমাজসহ প্রতিটি স্তরের মানুষ আজ বুঝেছেন যে, উন্নয়নের একমাত্র গ্যারান্টি হলো সুশাসন ও রাষ্ট্র নির্মাণ।
​সাধারণ মানুষের এই অভূতপূর্ব সমর্থন ও আস্থা আমাদের ওপর দায়িত্ব অনেক বাড়িয়ে দিল। এই ট্রাস্ট বা বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়ে আমরা শপথ নিচ্ছি—কোনো বিভাজন নয়,সবাইকে সাথে নিয়ে আমরা একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও বিকশিত বাংলা গড়ে তুলবই।ভয় ও অপপ্রচারের রাজনীতি কাটিয়ে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে সংখ্যালঘু সমাজ যেভাবে সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছে, আপনার এই মন্তব্যে সেই গুরুত্বপূর্ণ সত্যটিই উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীরা ডিটেনশন ক্যাম্প, নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া কিংবা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার যে ভয়ের জুজু দেখিয়ে আসছিল, জনগণ সেই অসত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে।আজ সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা বুঝেছেন কারা তাদের সত্যিকারের বন্ধু আর কারা শুধুই ভয়ের রাজনীতি করে ফায়দা লুটতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভয় দেখানো হয়েছিল—বলা হয়েছিল, ওরা এলে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবে, 'বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেবে', 'ধর্মীয় স্বাধীনতা কেড়ে নেবে'। ভয় দেখিয়ে, আতঙ্ক ছড়িয়ে একনায়কত্ব চালানের যে চেষ্টা বিরোধীরা করেছিল, দেশের সাধারণ মানুষ তার কড়া জবাব দিয়েছে।‌ ​যে 'ফ্রেন্ডশিপ ডে' বা বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া হয়েছিল, সেই আস্থার আহ্বানে সংখ্যালঘু সমাজ সাড়া দিয়েছে। তারা বুঝে গেছে, উন্নয়ন, সুরক্ষা আর অধিকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য নয়—কেন্দ্র সরকারের প্রতিটি নীতি প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের জন্য। ​মিথ্যা অপপ্রচারের বেলুন আজ ফুটো হয়ে গেছে। কোনো ডিটেনশন ক্যাম্প নয়, কোনো ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে সুশাসন ও নিরাপত্তার গ্যারান্টি আজ প্রতিটি মানুষের কাছে স্পষ্ট। ভয় নয়, ভালোবাসার জয় হয়েছে,বিভাজন নয়, রাষ্ট্র নির্মাণের রাজনীতি জয়ী হয়েছে।
ই-পেপার