এসএসসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি খোয়ানো ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর শূন্যপদ পূরণ ঘিরে ফের জটিলতার মেঘ।এসএসসির জারি করা নয়া বিজ্ঞপ্তি এবং সংশোধিত প্যানেলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় চাকরিপ্রার্থীরা। সোমা মিদ্যা-সহ ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর দায়ের করা মামলাটির বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে দ্রুত শুনানির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর ২৯ মে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের জন্য নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল কমিশন। নির্ধারিত সময়সূচি মেনে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের পর একাদশ-দ্বাদশের চূড়ান্ত মেধা তালিকা ও নম্বর-সহ ওয়েটিং লিস্টও প্রকাশ্যে আনা হয়। কিন্তু গোল বাঁধে গত ২৮ সেপ্টেম্বর এসএসসি-র নতুন সংশোধিত তালিকা প্রকাশের পর। প্যানেল থেকে বেশ কিছু প্রার্থীর নাম বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বাদ পড়া একটা নির্দিষ্ট অংশকে নিয়ে ফের ইন্টারভিউয়ের নোটিস দেয় কমিশন। এসএসসির এই পদক্ষেপ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েই মূল প্রশ্ন তুলেছেন মামলাকারীরা।
মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী আশিসকুমার চৌধুরী জানান, সরকারি নিয়মে পরিষ্কার বলা আছে, একবার পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও নম্বর-সহ ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশিত হয়ে গেলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া ‘লক’ হয়ে যায়। প্যানেল থেকে কারও নাম বাদ গেলে কিংবা পদ ফাঁকা হলে নিয়ম মেনে ওয়েটিং লিস্ট থেকেই পরপর পদ পূরণ করতে হয়। কিন্তু ইন্টারভিউ শেষ হয়ে যাওয়ার পর মাঝপথে এমন টালবাহানা করে কেবল নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর পুনরায় ইন্টারভিউ নিলে বঞ্চনার সম্ভাবনা তীব্র হয়। এর ফলে ওয়েটিং লিস্টে থাকা আসল যোগ্য প্রার্থীরাই সুযোগ হারাবেন বলে দাবি আইনি বিশেষজ্ঞ দলের। এর পাশাপাশি ওবিসি শংসাপত্র বাতিলের জেরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলাও মামলায় টেনে আনা হয়েছে। ২০১১ সালের পরবর্তী একাধিক ওবিসি সার্টিফিকেট আদালতের নির্দেশে বাতিল হওয়ায় অসংখ্য প্রার্থীর সাব-ক্যাটেগরি আচমকা বদলে জেনারেল ক্যাটেগরিতে চলে এসেছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক অনগ্রসর শ্রেণির চাকরিপ্রার্থী পুরোপুরি তালিকার বাইরে চলে গেছেন। আইনি জট তুঙ্গে উঠলেও এসএসসি অবশ্য তাদের সূচি মেনেই এগোচ্ছে। নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষকদের তথ্য সংশোধনের জন্য ৭ থেকে ১১ অক্টোবর অনলাইনে পোর্টাল খোলা হচ্ছে। অন্যদিকে একাদশ-দ্বাদশের ইন্টারভিউ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলা ও অর্থনীতির ইন্টারভিউতে অবশ্য বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। এখন দেখার, হাইকোর্টে শুনানি হলে এসএসসির এই নয়া প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়।