মুম্বাই: বলিউড বা ভারতীয় সিনেমা নাকি কখনও হলিউডের মতো বিশ্বজনীন হতে পারবে না! কারণ একটাই, আমাদের ভাষা নাকি বিশ্বের সবাই বোঝে না। কেরিয়ারের শুরুতে খোদ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-কে শুনতে হয়েছিল এমনই এক চরম সত্যি। হিন্দি, তেলুগু বা মারাঠি সিনেমা নিয়ে তৈরি হওয়া সেই ধারণা অবশ্য আজ অনেকটাই ফিকে। সম্প্রতি ফ্রান্সের কান লায়ন্স উৎসবে এসে বিনোদন দুনিয়ার এই খোলনলচে বদলে যাওয়া নিয়ে অকপট মুখ খুললেন এই গ্লোবাল আইকন।
আজ প্রিয়াঙ্কা বিশ্বমঞ্চে এক পরিচিত নাম হলেও, তার এই পথ চলা সহজ ছিল না। অন্দরমহলের কোনও চেনা পরিচিত ছাড়াই তিনি পা রেখেছিলেন এই গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে। অভিনেত্রী জানান, তার বাবা-মা দুজনেই ডাক্তার ছিলেন। ফলে সিনেমার অলিগলি কীভাবে নেভিগেট করতে হয়, তা তাঁদের জানা ছিল না। কেরিয়ারের শুরুতে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ছিল অত্যন্ত গণ্ডিবদ্ধ। কিন্তু সেই কঠিন সময় পেরিয়ে আজ তিনি সফল। আর ঠিক সেই কারণেই তিনি নিজের একটি প্রযোজনা সংস্থা শুরু করেছেন, যাতে সেইসব নতুন পরিচালক ও প্রতিভাবানদের পাশে দাঁড়ানো যায়, যাদের মাথায় দারুণ আইডিয়া থাকা সত্ত্বেও ইন্ডাস্ট্রির বড় দরজাগুলো খোলার ক্ষমতা নেই। সময় যে বদলেছে, তা প্রিয়াঙ্কা খুব স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেছেন। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং অতিমারি পরিস্থিতি মানুষের কনটেন্ট দেখার অভ্যাস বদলে দিয়েছে। এখন ভাষা আর কোনও বাধা নয়। কান-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি সাম্প্রতিক কম বাজেটের সুপারহিট হরর ছবি ‘অবসেশন’-এর উদাহরণ দেন। প্রিয়াঙ্কার কথায়, এখন আপনার মাথায় কোনও আইডিয়া থাকলে সেটা শুট করে ইউটিউবে দিয়ে দিন, ওটাই হয়তো পরবর্তী ‘অবসেশন’ হয়ে উঠবে। বিনোদন দুনিয়ার জন্য এটা একটা দারুণ সময়, কারণ এখন আপনার আইডিয়াই আপনার আসল সম্পদ। বলিউডে সমস্ত প্রথম সারির পরিচালক ও অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার পর, প্রিয়াঙ্কা এখন হলিউডের ইংরেজি প্রজেক্টে নিজের মাটি আরও শক্ত করতে চান। ‘সিটাডেল’ বা ‘হেডস অফ স্টেট’-এর মতো ওটিটি সাফল্যের পর তিনি এখন হলিউডের কাজেও বৈচিত্র্য আনতে মরিয়া। যে বলিউডকে একদিন ‘আঞ্চলিক’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল, আজ ওটিটির হাত ধরে সেই দুনিয়াকেই বিশ্বমঞ্চে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লড়াই চালাচ্ছেন পিগি চপস।